সমকামী মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে

প্রায় ৫ বছর পুর্বে পাকিস্তানের জনৈক মন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন – সেদেশের মাদ্রাসা গুলোতে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজারের মতো সমকামী ঘটনা ঘটছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। পত্রিকায় প্রায়ই দেখা যায়, মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের কাছে শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা নিতে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে । আমার বিশ্বাস, সমগ্র দেশে জরিপ করা হলে এদেশেও প্রতিবছর ২/৩ হাজারের মতো সমকামীর ঘটনা পাওয়া যাবে। কোন জায়গায় এজাতীয় ঘটনা ঘটলে এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে সামান্য শাস্তি দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় বটে; কিন্তু ওই ব্যক্তি অন্যত্র গির্য়ে যে একই অপকর্ম করছে না, এর নিশ্চয়তা কোথায় ! হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক উথ্বাপিত ১৩ দফার দাবির মধ্যে চার ও পাঁচ নম্বর দাবিতে বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, নারী নীতি বাতিলের দাবী রয়েছে। কিন্তু কোথাও সমকামীর বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। কয়েকটি পশ্চিমা দেশে সমকামীতাকে আইনি বৈধতা দিলেও ইসলামী আইনে এটি জঘন্য অপরাধ হিসাবে স্বীকৃত। পবিত্র কোরআনে এই অপকর্মের কারণে লুত জাতি ধবংস হয়ে যাওয়ার কথা বলা আছে। শরিয়া আইনে এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের উচিত হবে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতেই নয়, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যেন এ অপরাধ না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া । সেজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একক স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ে আসা । সুত্র: মোশাররফ হোসেন মুসা- স্হানীয় সরকার বিষয়ক লেখক।

Posted by
Abraham Lingkon

More

জেনে নিন সমকামিতার ভয়ন্কর কয়েকটি খারাপ প্রভাব (সব বয়সীদের অবশ্য পাঠ্য)

সমকামিতা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, সামাজিকভাবেও গ্রহণযোগ্য নয়, ধর্মীয়ভাবে ইসলাম ধর্মেও গ্রহণযোগ্য নয়, চিকিত্সা বিজ্ঞানেও গ্রহণযোগ্য নয় ।

এবং এই সমকামিতা সেক্সুয়ালিটির দিক medical science যা আছে -

"....সমকামিতার প্রায় ৯০% সম্পর্ক অ্যানাল সেক্সের সাথে সম্পর্কিত । মলাশয়কে যৌনসঙ্গমের জন্য ব্যাপার করা হলে বিভিন্ন ভাইরাসের জন্য তা পোয়াবারো, কেননা লিঙ্গ সহজেই মলাশয়গাত্র ( রেকটাল ওয়াল) ভেদ করে সেটিতে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং সেই ক্ষত দিয়ে বীর্য সহজেই ব্লাডস্ট্রিমে ঢুকে পড়ে..শারীরিক ক্ষতিসাধনে সমকামী পুরুষদের যৌনসঙ্গমের প্রকৃতি চরমভাবে দায়ী । কেননা এই যৌনাচারণ শুধু সক্রিয়/পরোক্ষ নয়, পেনাইল –অ্যানাল, মাউথ-পেনাইল, হ্যান্ড –অ্যানাল এমনকি মাউথ-অ্যানাল সম্পর্ক খুবই স্বাভাবিক। মাউথ-অ্যানাল সম্পর্ক আন্ত্রিক জীবাণুর মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করতে খুবই সহায়ক । মলাশয়ে ক্ষত থেকে শরীরের ভেতরে জীবাণু প্রবেশ করে, এবং অ্যানো –জেনিটাল সিফিলিটিক আলসারের সৃষ্টি হয় । সূত্রঃ R. R. Wilcox, “Sexual Behaviour and Sexually Transmitted Disease Patterns in Male Homosexuals,” British Journal of Venereal Diseases, 57(3): 167-169, 167 (1981). ক্ষত যে শুধু লিঙ্গের প্রবেশের মাধ্যমেই হবে তা নয়, সেটি ডিলডো/পেনাইল এডোর্নমেন্ট/প্রোস্থেসেসের মাধ্যমে হতে পারে এবং বিষমকামী ব্যক্তিরা এসব ব্যবহার করলেও সমকামী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবহারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি । সূত্রঃ Robert T. Michael, et al., Sex in America: a Definitive Survey, pp. 140-141, Table 11, Boston: Little, Brown, and Co., 1994; Rotello, pp. 75-76. অ্যানো-জেনিটাল সম্পর্ক সমকামী ব্যক্তিদের সমকামী সম্পর্কের প্রধান রুট অ্যানো-জেনিটাল রুট, একে বলা হয় sine qua non of sex for many gay men অর্থাৎ এটি সমকামী সম্পর্কে অপরিহার্য । হিউম্যান ফিজিওলজী থেকে এটি স্পষ্ট যে, মানবদেহ এই সম্পর্কের জন্য তৈরি বা পরিকল্পিত নয় । অ্যানো-জেনিটাল যৌনসঙ্গমের কারণে ফিকাল ম্যাটেরিয়ালের নিঃসরণও ক্রমাগত বা ক্রনিক আকার ধারণ করে । অরডিনারী রিপ্রোডাক্টিভ ফিজিওলজি থেকে জানা যায়, সিমেন বা বীর্যরস ইমিউনোসাপ্রেসিভ বা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিরুদ্ধ বা নিগৃহীত করে, অ্যানাল রুট একেই অত্যন্ত নাজুক এবং জীবাণুর ডিপো, সেখানে ইমিউন সিস্টেম যোনীর সিস্টেমের তুলনায় এমনিতেই অনেক দুর্বল থাকে, সেই দুর্বল সিস্টেমে যদি বীর্যরসের মাধ্যমে তাকে আরো দুর্বল করে দেওয়া হয়, তাহলে জীবাণু বিনা প্রতিরোধে শরীরে প্রবেশ করে অতি সহজেই বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করবে । সূত্রঃ S. S. Witkin and J. Sonnabend, “Immune Responses to Spermatozoa in Homosexual Men,” Fertility and Sterility, 39(3): 337-342, pp. 340-341 (1983). অ্যানাল সেক্স যে অপকারী সে সম্পর্কে নামকরা সেক্সোলজিস্ট আভা ক্যাডেল বলেছেন - Unprotected oral sex carries less risk for the transmission of STD’s than unprotected intercourse or anal sex does অ্যানাল সেক্স, সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজের জন্য অন্য পন্থার সেক্স অপেক্ষা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ । সূত্রঃ Click This Link Having sexual intercourse, oral sex and anal sex are the top cheating activities অর্থাৎ, অ্যানাল সেক্স নেতিবাচক। সূত্রঃ Click This Link Approximately 40 percent of heterosexual couples have tried anal sex at least once, so obviously it’s a highly erotic and gratifying experience, but it’s also a high-risk activity for HIV and other STDs, so please use protection সূত্রঃ Click This Link অ্যানাল সেক্সের কারণে নিম্নলিখিত রোগের প্রাদুর্ভাব সমকামীদের মধ্যে অত্যন্ত বেশি – ১) এইচআইভি এইডস ২) সিফিলিস ৩) গনোরিয়া ৪) হার্পিস সিমপ্লেক্স ৫) ভাইরাল হেপাটাইটিস টাইপ বি ও সি ৬) ক্ল্যামিডিয়া ইনফেকশন ৭) অ্যানাল ক্যান্সার ৮) ক্রিপ্টোস্পোরিডিওসিস ৯) আইসোস্পোরিয়াসিস ১০) মাইক্রোস্পোরিডিওসিস ১১) জিয়ার্ডিয়া ল্যাম্বলিয়া ডিজিজ ১২) স্কিন ও অ্যানো-জেনিটাল ওয়ার্ট ১৩) হেপাটাইটিস এ ১৪) এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকাজাত এমিবিয়াসিস ১৫) শিগেলোসিস ১৬) সালমোনেলোসিস ১৭) পেডিকুলোসিস ১৮) স্ক্যাবিস ১৯) ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস ২০) ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস ২১) মেনিনজাইটিস ও মেনিঞ্জোকক্কেমিয়া ২২) হুক ওর্ম । উল্লেখ্য, ৭-২২ নং রোগগুলি বিষমকামী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খুবই বিরল । ১-৬ নং রোগগুলো সমকামী ও বিষমকামী উভয় ব্যক্তিদের হলেও সমকামী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সকল রোগের হার অনেক বেশি । উদাহরণস্বরূপঃ In 1999, King County, Washington (Seattle), reported that 85 percent of syphilis cases were among self-identified homosexual practitioners আমেরিকার সিয়াটল প্রদেশের কিং কান্ট্রিতে ৮৫% সিফিলিস আক্রান্ত ব্যক্তি সমকামী যৌনসম্পর্কে লিপ্ত । Syphilis among homosexual men is now at epidemic levels in San Francisco এছাড়া অন্যান্য রোগের মধ্যে রয়েছে – ক) হেমোরয়েড (পাইলস) খ) অ্যানাল ফিশার গ) অ্যানোরেকটাল ট্রমা ঘ) রিটেইন্ড ফরেইন বডিজ ইত্যাদি যেগুলো অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর অ্যানাল যৌনসংসর্গ। সূত্রঃ Anal Health for Men and Women,” LGBTHealthChannel, http://www.gayhealthchannel.com/analhealth/ J. E. Barone, et al., “Management of Foreign Bodies and Trauma of the Rectum,” Surgery, Gynecology and Obstetrics, 156(4): 453-457 (April 1983). ওরাল-অ্যানাল যৌনসম্পর্ক সমকামীদের এই ধরনের যৌনসম্পর্কের সাথে অজস্র প্যারাসাইটিক এবং আন্ত্রিক রোগ বিজড়িত। গে-বাওয়েল সিনড্রোম এমন একটি রোগ যা অবাধ অ্যানাল যৌনসংসর্গ/ এনিলিংগাস বা পায়ুপথ ও নিতম্ব চোষণ ও লেহন (রিমিং/রিম-জব) / ফেলাশিও বা লিঙ্গচোষণের (ব্লোজব) মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এবং সমকামীদের মধ্যে এই সিনড্রোম অত্যাধিক বেশি বলেই এর নাম বিশেষভাবে গে-বাওয়েল সিনড্রোম রাখা হয়েছে । সূত্রঃ Henry Kazal, et al., “The gay bowel syndrome: Clinicopathologic correlation in 260 cases,” Annals of Clinical and Laboratory Science, 6(2): 184-192 (1976). Glen E. Hastings and Richard Weber, “Use of the term ‘Gay Bowel Syndrome,’” reply to a letter to the editor, American Family Physician, 49(3): 582 (1994). Ibid.; E. K. Markell, et al., “Intestinal Parasitic Infections in Homosexual Men at a San Francisco Health Fair,” Western Journal of Medicine, 139(2): 177-178 (August, 1983). নিউইয়র্কে ১৯৯১ সালের হেপাটাইটিস এ প্রাদুর্ভাবের সময় সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের% জরীপে দেখা যায়, ৭৮% হেপাটাইটিস এ আক্রান্ত ব্যক্তি হয় সমকামী নয়তো উভকামী । সূত্রঃ “Hepatitis A among Homosexual Men—United States, Canada, and Australia,” Morbidity and Mortality Weekly Report, CDC, 41(09): 155, 161-164 (March 06, 1992). সালমোনেলা মূলত যৌনবাহিত রোগ নয়, তবে যৌনসংশ্লিষ্ট সালমোনেলার প্রধান কারন ওরাল-অ্যানাল এবং ওরাল –জেনিটাল সমকামী যৌনসম্পর্ক । সূত্রঃ C. M. Thorpe and G. T. Keutsch, “Enteric bacterial pathogens: Shigella, Salmonella, Campylobacter,” in K. K. Holmes, P. A. Mardh, et al., (Eds.), Sexually Transmitted Diseases (3rd edition), p. 549, New York: McGraw-Hill Health Professionals Division, 1999. টাইফয়েড মূলত পানিবাহিত রোগ হলেও এর যৌনসংশ্লিষ্ট প্রকারটির অন্যতম মূল কারণ সমকামিতা । সূত্রঃ Click This Link "

সমকামীদের মধ্যে ধূমপান ও মদ্যপানের হার সাধারণ জনগোষ্ঠী থেকে অত্যন্ত বেশি বলে ফুসফুস এবং যকৃতের ক্যান্সার হওয়ার হারও বেশি। অ্যানাল সেক্সে মলাশয়গাত্রে অতি সহজেই ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং অ্যানাল রুট হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের জন্য একটি সহজপ্রবেশ্য রুট বলে অ্যানাল ক্যান্সারের হার সমকামীদের মধ্যে অত্যন্ত বেশি। নার্সিং ক্লিনিক অব নর্থ আমেরিকার জার্নালের জুন, ২০০৪ রিপোর্টে দেখা যায় – এইডস আক্রান্ত ৯০% সমকামী ব্যক্তিদের দেহে এবং এইডস ব্যতীত ৬৫% সমকামী ব্যক্তিদের দেহে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস রয়েছে যার মধ্যে এইচপিভি টাইপ ১৬ ক্যান্সারের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকরণ।

সমকামীদের মধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসজাত অ্যানাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বিষমকামীদের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যানাল ক্যান্সার হওয়ার ক্ষেত্রে সমকামীদের মধ্যে এই ঝুঁকি বিষমকামীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ।

সূত্রঃ

Mads Melbye, Charles Rabkin, et al., “Changing patterns of anal cancer incidence in the United States, 1940-1989,” American Journal of Epidemiology, 139: 772-780, p. 779, Table 2 (1994).

James Goedert, et al., for the AIDS-Cancer Match Study Group, “Spectrum of AIDS-associated malignant disorders,”


তবে এর ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে ... বিজ্ঞানসম্মত ধর্মীয় ব্যাখ্যাও আছে।

কোরান থেকে হজরত লুতের সময়কার জনগোষ্ঠী ধবংসের সাথে সাথে অন্য একটি সুরা নিসার ১৬ নং আয়াতে পাওয়া যায় -

তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর । অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও । নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু ।

অর্থাৎ, সমকামীদের প্রশ্নে ধবংসের কথা দাবী করছে অর্থাৎ তাদের কঠিন শাস্তির কথা বলছে..

Posted by
Abraham Lingkon

More

সমকামী(১৮+)

সারা পৃথিবীতে যখন সমকামীদের নিয়ে প্রচন্ড আলোড়ন- উন্নত বিশ্বর কোন কোন দেশে যখন সমকামীদের বৈবাহিক বৈধতা দেয়া হচ্ছে- ঠিক সে সময়টাতেও কিন্তু রাশিয়াতে সমকামীদের প্রচন্ড ঘৃনা করা হত!
দুজন পুরুষ বা দুজন নারী এমনকি তারা যদি আপন ভাই কিংবা বোনও হয়-এক বিছানায় পাশাপাশি ঘুমোলে তাদেরকেও সন্দেহের চোখে দেখত।
আমি দেখেছি দুবোন কিংবা দুভাই যদি একান্ত বাধ্য হত পাশাপাশি শুতে তাহলে একজন মাথা দিত উত্তরে একজন দক্ষিনে! প্রথমে বুঝিনি এমনতর শোয়ার গুঢ় রহস্য।
পরে এক রুশভাই আমাকে ব্যাখ্যা করে দিলে আমি বাকহারা হয়েছিলাম বেশ কিছুক্ষন।
আরো আশ্চর্যের কথা রুশ রমনীরা পারতপক্ষে মর্দ্দা কুকুর পোষেনা আর পুরুষরা তার উল্টেটা!
ওখানে যখন দুজন পুরুষ বা নারী পাশাপাশি হাত ধরে হাটলেও অনেকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আড়চোখে তাকায়-তখনো কিন্তু আমরা বাঙ্গালীরা উদাসীন। দুজনের বিছানায় ছজন লেপ্টালেপ্টি করে ঘুমাই । বন্ধুকে কদিন পরে দেখলেই আবেগের অতিশয্যে বুকে জড়িয়ে ধরি , আড্ডায় রাত জেগে কেউ ক্লান্ত হয়ে পড়লে পাশে বসা বন্ধুর ঘাড়ের উপর মাথা রেখে বিশ্রাম নেই।
এসব দেখে ওরা চোখ বড় বড় করে ভাবে এরা কি গন সমকামী?
কেউ একজন মুখ ফুটে বলে ফেললই একদিন ‘ তোমরা কি..? ’ শুনে আমরা হাসতে হাসতে মরি!
কোন একদিন ছিল সমগ্র রাশিয়ায় পতিতালয় নেই বলে তারা গর্ব করত । কিন্তু এখন সেই দিন আর নেই । এখন এরা বড় বেশী সহজলভ্য হয়ে গেছে।
১৯৯৬ সাল মাত্র চারপাচ বছর আগে যেখানে রুশরা আমাদের বঙ্গের ( হকার্স মার্কেট)কেনা সস্তা জিনস দেখে ভিমড়ি খেত এখন তারাই ব্যাবহার করছে বিশ্ব বিখ্যাত ফ্যাশন হাউজের পোষাক। যা দেখে আমরা এখন ভিমড়ি খাই!
বড় বড় কাচে ঘেরা জাকজমকপূর্ন এসব কোম্পানীর শোরুম দেখে সদ্য গ্রাম কিংবা মফস্বল তেকে আসা মেয়েরা ফ্যাল ফ্যাল করে এখনো চেয়ে থাকে । ভিতরে সাজানো এককটা পোষাক তাদের সপ্নে পাওয়া অর্থের থেকেও মুল্যবান।
ভয়ে হাত দিয়ে ধরে দেখতে সাহস হয়না। কিন্তু সেই মেয়েটাই যখন দুদিন পরে তেমন একট পোষাক পরে আপনার নাকের ডগা দিয়ে পুরের সুবাস ছড়িয়ে গ্যাট গ্যাট করে হেটে যাবে তখন নিশ্চই দিনের বেলা খোলা চোখে সপ্ন দেখছেন ভেবে ডাক্তারের কাছে ছুটবেন ।
এটা কি সম্ভব ? হ্যা সম্ভব! তবে কিভাবে। ওই পোষাকটা সেই মেয়েটার হয়তোবা একরাতের কামাই। আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই আশা করি।
কাল রবিবার। ছুটির দিন। শীতের রাত। আটটাতেই রাস্তাঘাট ফাঁকা তবে পাব বার ডিসকো থেক আর ক্যাসিনোতে উপচে পরা লোকের ভীড়। রাত দশটার দিকে আমরা চার বন্ধু মিলে যাচ্ছিলাম অন্য এক বন্ধুর বাসায় সারারাত আড্ডা দেবার অভিপ্রায়। জাকির গাড়ি চালাচ্ছিল। ঐতিহাসিক রেড স্কোয়ারের পাশ দিয়ে একটু এগিয়ে যেতেই পিছনের সিটে আমার সাথে বসা সুদর্শন ও বাগ্মী নিঝুম জাকিরকে একটু গাড়ি স্লো করতে বলল। জাকির ঘাড় ঘুড়িয়ে হেসে বলর ‘কি ব্যাপার নিঝুম তোমার ধান্দা কি।’ তার চাহনী রহস্যজনক।
কিন্তু মেলা দিন পরে এই শহরে আসা গেঁয়ো আমি বুঝতে পারলামনা এই কথা ও চাহনীর তাৎপর্য!
নিঝুম চোখ মেরে বলল,‘ রাস্তার পাশ ঘেষে চালান। একটু ফাজলামী করি।’ ব্যাপারটা কি আমি উৎসুক চোখে তাকালাম রাস্তার পাশে আধো আলো অন্ধকারে প্রথমে ভাল করে বোঝা যায়নি ভাল করে লক্ষ করতেই বোঝা গেল বিশাল চওড়া কালচে পাথরের ফুটপাথ ঘেষে থাকা প্রতিটা ল্যাস্প পোস্ট গুলোর আড়ালে দাড়িয়ে আছে কোন নারী বা পুরুষ । কাড়িটা ফুটপাথ ঘেয়ে একটু স্লো হতেই ওদের কয়েকজন আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এল ।
‘ওই মহিলার কাছে যান।’ একটু দুরে দাড়ানো এক মহিলাকে উদ্দেশ্য করে নিঝুম জাকিরকে বলল ।
জাকির নির্দিস্ট স্থানে গাড়ি থামাতেই সেই ভদ্র মহিলা চারিদিকে ভাল করে নজর বুলিয়ে এগিয়ে এল । নিজুম ততক্ষনে পিছনের কাচ নামিয়ে ফেলেছে।
মহিলা কাছে এসে মাথাটা ঝুকিয়ে চাপা কন্ঠে বলল ‘, শুভসন্ধ্যা ভদ্রগন। আপনাদের কি প্রয়োজন?’
‘কি তোমার কাছে আছে?’ নিঝুমের সিরিযাস কন্ঠ শুনে আমি চমকে গেলাম।
মহিলা একটু চুপ থেকে বলল ,’ যা চাও ।যেরকম চাও সবই আছে।’
‘কি কেমন আছে একটু ব্যাখ্যা কর?’
‘বারো থেকে শুরু করে বাহান্ন সবই আছে । লম্বা খাটো শুটকি মুটকি এমনকি সেরা অভিজাত বংশের রুশ সুন্দরীকেও পাবে।তবে খরচটা একটু বেশী।’
নিঝুম মাথা নেড়ে বলল,‘ না চলবে না । আর কি আছে?’
মহিলা পিছনের একটা বাসার দিকে ইঙিত দিয়ে বললেন ‘আমার সাথে নেমে গিয়ে ওই বাসাটাতে চল ওখানে সবই আছে তুমি দেখে পছন্দ করে নিও।’
‘উহু ,তোমার ওখানে তো সব যুবতী আর নারী নাকি?’
‘হ্যা । অবশ্যই ।’ মহিলা দৃঢ় কন্ঠে বলল ।
’কিন্তু আমাদের যে দরকার অন্যকিছু ।’
‘কি দরকার?’ মহিলার কন্ঠে বিস্ময় ।
নিঝুম তাকে ইশারায় আরেকটু কাছে আসতে বলল । সে দুপাশে ঘাড় ঘুড়িয়ে ভাল করে লক্ষ্য করে মাথাটা আরেকটু কাছে নিয়ে এল॥
নিঝুম চাপা কন্ঠে বলল ,‘ আমাদের দরকার দুটো ছেলে। আছে তোমার কাছে ?’
কথাটা মাটিতে পরার আগেই ‘ও বজ্বা মোই!(ও মাই গড) বলে চিৎকার করে মহিলা সভয়ে ছিটকে পিছিয়ে গেল অনেখখানি! আমরা ভিতরে বসা সবাই মিলে একসাথে হো হো করে হেসে উঠলাম। জাকির গাড়ি ছেড়ে দিল একটু এগিয়ে যেতেই পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি মহিলাটি হা হয়ে বিস্ফোরিত নেত্রে আমাদের গমন পথের দিকে চেয়ে আছে।
সন্দেহ নেই তার এই জীবনে এমন ঘটনার সন্মুখিন হয়নি।
তবে একটা ব্যাপার দিনের মত পরিস্কার হয়ে গেল যে এরা সমকামীদের এখনও যেথেস্ট ঘৃনা করে !

Posted by
Abraham Lingkon

More

চীনে ১৬ মিলিয়ন মহিলা সমকামী পুরুষকে বিয়ে করে

কুইনদাও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ঝ্যাং বেই-চুয়ান সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, চীনের প্রায় ১৬ মিলিয়ন মহিলা গে পুরুষকে বিয়ে করে। তার মতে চীনের মোট বিয়ের শতকরা তিন ভাগ এই ধরনের বিয়ে সংঘটিত হছে। ১৯৯৭ সালে চীনে সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া হয়। ২০০১ সালে সমকামিতাকে মানসিক ব্যাধির তালিকাহতে বাদ দেয়া হয়। গে কমিনিউটির সদস্যদের সেখানে কোন বাধা দেয়া হয় না। কিন্তু অনেকেই বাধা দেয়ার চেষ্টা করে।

বাই-চুয়ান বলেন, গে দের অনেকেই সামাজিক প্রত্যাশায় বিয়ে করে। কিন্তু সেটা বউ এর জন্য সেটা কখনোই সুখকর হয় না। ২৯ বছর বয়স্ক জিয়াও ইয়াও, যার বিয়ে হয়ছে একজন সমকামী পুরুষের সাথে। সে তার মত মহিলা যারা একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে তাদের জন্য একটা ওয়েবসাইট খুলেছেন। “অধিকাংশ গে পুরুষের বউয়েরা নিরবে স্বামীদের কাছে বঞ্চনার স্বীকার হয়। যারা কখনোই বউদেরকে ভালবাসে না। আমার মত অনেকেই স্বামীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয় এবং প্রচুর চাপের ভিতর থাকে।আমাদের ওয়েব সাইট তাদের মানসিক ভাবে তাদের শক্তি যোগাবে যে তারা একা নয় এবং তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহস যোগাবে।”

গে কমিউনিটির কেউ কেউ এই রিসার্চের রেজাল্ট নিয়ে বিতর্ক করছে। এইচ আইভি/এইডস প্রতিরোধের সাথে যুক্ত জিয়াও ডন একজন গে। তিনি এই রেজাল্ট কে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন এটা আসলে একটি বানোয়াট এবং পয়েন্টলে, ভিত্তিহীন প্রচারণা। কিছু লোকের উপর যৌন চাহিদা নিয়ে গবেষণা করে তা সমগ্র চীনের মানুষের উপর হিসেব করা কখনোই বৈধ হতে পারেনা।

বাংলাদেশে গে'রা সাধারনত ধর্মীয় ও সামাজিক চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের সেই সব মেয়েদের লাঞ্চণার খবর কি আমরা রেখেছি?

Posted by
Abraham Lingkon

More

বৃটিশ সমকামী ডিপ্পনের সাথে ৫ বছরের সমকামী সম্পর্কে বাংলাদেশী সুমন: সামনে ঈদ, পুলিশের চুলকানী - কোতোয়ালি থানায় মামলা

সিলেটের যুবক সুমন ও জাকিরের সঙ্গে হোটেল কক্ষে সমকামিতায় লিপ্ত ছিল বৃটিশ নাগরিক এ্যালেন হাওয়ান ডিপ্পন। এই খবর আসে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে। পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায় হোটেল কক্ষে। তারা গিয়ে হোটেলের একটি কক্ষে তিনজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় বৃটিশ নাগরিক ডিপ্পনের সমকামিতার অভিযোগে বাংলাদেশের যুবক সুমন ও জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার নগরীর আম্বরখানাস্থ হোটেল বৃটানিয়ার ৫তলার ৫০৫ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আটক বৃটিশ নাগরিক এ্যালেন হাওয়ান ডিপ্পন যুক্তরাজ্যের লুসন বিডিএসএলইউ ৩২ এনএলের মার্সা রোড ১৪৪নং বাসার বাসিন্দা। তার সাথে আটক বাংলাদেশী কিশোর সুমন (২০) সুনামগঞ্জের মধ্যনগর গ্রামের মালিক আহমদের ছেলে। সে নগরীর পাঠানটুলার সফিক মিয়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। জাকিরের বাড়িও একই এলাকায়।

আটকের পর বৃটিশ নাগরিক ডিপ্পনকে আটকের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা সিলেটের কোতোয়ালি থানার এসআই রবিউল ইসলাম মাসুম জানান, আটককৃত বৃটিশ নাগরিক এ নিয়ে ৮/১০ বার বাংলাদেশে এসেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। তার পাসপোর্ট নম্বর-৫৪০১৪৩৮৫০। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি প্রতিবার সুমনকে খুঁজে নিয়ে আসতেন। আর সুমন তাকে ৫ বছর যাবৎ সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আরও বেশ কয়েকটি ছেলের সাথে সমকামিতায় জড়ানোর কথাও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন ডিপ্পন।

এ বছরের প্রথম দিকে নগরীর ধোপাদিঘীরপারস্থ হোটেল মেট্রো থেকে একই অভিযোগে আটক করা হয়েছিল বৃটিশ নাগরিক পিটার এ্যালিসনকে। ওই সময় তার সঙ্গে একই কক্ষ থেকে সুমানগঞ্জের এক কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় এস আই রবিউল হক মাসুম বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারায় এ্যালন হাওয়ার্ডের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৭। কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নারায়ণ দত্তকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিদেশী নাগরিক হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে ডিপ্পনকে কোতোয়ালি থানায় বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা কোতোয়ালি থানার সাব ইন্সপেক্টর নারায়ণ জানিয়েছেন, আটকের পর ডিপ্পন নিজেও ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক বর্ণনা দিয়েছে। এবং সুমন ও জাকিরের সঙ্গে তার সমকামিতা রয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

Posted by
Abraham Lingkon

More

সমকামী বিয়ে বৈধতা পেলো নিউ ইয়র্কে

যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ট অঙ্গরাজ্য হিসেবে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের বৈধতা দিলো নিউ ইয়র্ক।
গভর্নর অ্যান্ড্রু সিউমো শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি বিলে সই করেন। এদিন নিউ ইয়র্ক সিনেটে ৩৩-২৯ ভোটে বিলটি পাশ হয়।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচনের আগে সমকামীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গভর্নর অ্যান্ড্রু সিউমো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এ ভোট সারা দেশে একটি বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এটাই এগিয়ে যাওয়ার পথ, এটা এখনই করার সময় এবং এটা অর্জন সম্ভব। এটা এখন আর স্বপ্ন বা আকাঙ্খার বিষয় নয়। আমি মনে করি, আপনারা একটি সামাজিক বিকাশ দেখতে পাচ্ছেন।"
"সামাজিক ন্যায় বিচারের একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছালাম আমরা।"

এ আইনটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। তখন নিউ ইয়র্কে সমকামীরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। এছাড়া আইনে সমকামী যুগলদের তালাকের বৈধতাও থাকছে।

সমকামী বিয়ে বৈধতা পাওয়ায় অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অ্যালবানির সিনেট গ্যালারি এবং নিউ ইয়র্কের স্টোনওয়াল ইনের বাইরে সমবেতরা উল্লাস মেতে ওঠে। এ স্টোনওয়াল ইনে ১৯৬৯ সালে সমকামীদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ।
এদিন এখানে কয়েকশ' মানুষ সমবেত হয়ে তাদের আন্দোলনের সফলতা উদযাপন করে। সেখানে উপস্থিত ৩৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্যারোলিন জিগার বলেন, "এখন সময় এসেছে। আমি বিয়ে করতে চাই। অন্য সবাই যেসব অধিকার ভোগ করে সেগুলো আমিও চাই।"
সমকামী বিয়ের বৈধতাকে স্বাগত জানিয়ে নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বলেন, সমতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটা একটা ঐতিহাসিক বিজয়।
তবে এতে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেন নিউ ইয়র্কের ক্যাথলিক বিশপরা।

Posted by
Abraham Lingkon

More

সমকামী-২ (১৮+)

নিকেতন থেকে বের হয়ে মুল রাস্তায় আসলাম ট্যাক্সি কিংবা অটোরিক্সার খোজে। সন্ধ্যে সাতটা বাজেনি তখনো। কর্পোরেট অফিসগুলোতে ছুটি হচ্ছে-এখন ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া বেশ কষ্টের। ট্যাক্সি চালকেরা তাদের প্রিয় গন্তব্যে পছন্দের যাত্রীকে নিয় ইচ্ছেমত ভাড়া হাকাতে ব্যাস্ত। দুয়েকটা খালি গাড়ি আসলেই ছুটো যাচ্ছে কয়েকজন-আর মওকা বুঝে চালকেরা ভাব নিচ্ছে। দুয়েকজন হা না বললেও বেশীরভাগই হয় মাথা ঝাকাচ্ছে নয়তো কিছু না বলেই আরো জোরে গাড়ি ছুটিয়ে চলে যাচ্ছে।ঢাকার রাস্তায় এই ট্যাক্সি চালকের দৌরাত্মে নিজেকে বেশ অসহায় মনে হয়।গাড়ি কেনাটা আর তখন বিলাসিতা মনে হয়না-সবচে জরুরি বিষয় বলেই ভাবতে ইচ্ছে করে।মৌলিক চাহিদা অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের সাথে গাড়িটাকে জুড়ে দিতে ইচ্ছে করে।
পাশের ব্যাংক থেকে এক রমণী অভদ্রের মত আমাকে টপকে সামনে গিয়ে উল্টোমুখে দাড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে বা হাতে আইডি কার্ডের ফিতেটা ঘুরিয়ে যেভাবে ঠ্যাং নাচাচ্ছিল তা দেখে মেজাজ বিগড়ে গেল।আমিও ইচ্ছে করলে তার সামনে গিয়ে দাড়াতে পারি কিন্তু সংস্কারে বাধে।
নাহ্ এখানে এভাবে দাড়িয়ে থাকার কোন মানে হয়না।হাতে যখন সময় আছে এর থেকে রিক্সায় গুলশান একনম্বর গিয়ে বাসে করে যাই।সময় থাকলে এমনিতেই অনেক সময় বাসে চড়ি-সেখানে প্রতিমুহুর্তেই নতুন নতুন কাহিনীর জন্ম হয়-শুধু চোখ মেলে বসে কান পেতে শুনলেই হল।
অফিস ছুটির সময় তাই স্বভাবতই এখন বাসে আরো বেশী ভীড়।সৌভাগ্যবশত সিট পেয়ে গেলাম। তিন সিটের দুপাশে দুজন বসে ছিল -মাঝেরটা খালি। বাম পাশের যাত্রীটা হাটু সরিয়ে আমাকে ভিতরে যাবার পথ করে দিলেন। দুজন যাত্রীর মাঝখানে বসাটা আমার বেশ অপছন্দের। একটু বিষন্ন মনে বললাম- ভাই মাঝখানেই পাঠালেন?
লোকটা বেশ ভাল, অমায়িক হেসে বললেন, কেন আপনি সাইডে বসতে চাচ্ছেন?সমস্যা নেই,বসেস-বসেন। বলে তিনি সরে গেলেন।
কি ভুল করলাম পরমুহুর্তেই বুঝলাম। পরের স্টপেজে হুড়মুড় করে বেশ কিছু যাত্রী উঠল। আমার পাশে এসে দাড়াল হাতে পোর্টফোলিও নিয়ে মার্জিত পোষাক পরা একহারা গড়নের লম্বা ফর্সা এক তরুন।বাসে তখনো গাদাগাদি ভীড় নেই পিছনে ফাকায় দাড়ানোর সুযোগ পেয়েও সে কেন দরজার কাছে আমার পাশেই এসে দাড়ালো বুঝলামনা।
বাস ফের চলতে শুরু করল। আমি নিমগ্ন হলাম আমার ধ্যানে।
খানিক বাদে একটু অস্বস্তি! ছেলেটা খুব বেশী ঘেষে আছে আমার বাহুর সাথে।বাসের ঝাকুনি ঢিমে তালে হলেও এস বেশ জোরে জোরে দুলছে। প্রথমে পাত্তা দেইনি ডান দিকে একটু চেপে বসলাম।
পরের স্টপেজে আরো কিছু যাত্রী উঠল।এবার বাস ভরে গেছে-ছেলেটা কিন্তু কোথাও না সরে সেখানেই দাড়িয়ে রইল ঠায়। আবার চলতি বাসে তার ঘষাঘষিতে মালুম হল মামু অন্য কিসিমের!ডাইনে বায়ে সরলাম এদিক ওদিক ঘুরলাম কিন্তু সে তার লক্ষ্যে অনড়। এবার আবার নিজের ভুল ভেবে নিজের মধ্য ডুব দেবার চেষ্টা করলাম। ভেবে ওখানে এক রমনীই দাড়িয়ে আছে-কল্পনায় না হয় একটু আদিম সুখই অনুভব করলাম। কিন্তু না সপ্নের শুরুতেই হোচট খেলাম!কঠিন পুরুষাঙ্গের ঘর্ষন নারীর কোমলতার সাথে যে বড্ড বেমানান। মনে হল উঠে দাড়িয়ে জোরে এক থাপ্পর মারি-শালা বিতলামীর আর জায়গা পাওনা।উমহু ব্যাপারটা শোভন হবেনা-ফের সংস্কারের বাধা!
ঘাড় ঘুরিয়ে ছেলেটার দিকে তাকালাম ভাল করে। ফর্সা র্সুদর্শন লো পাওয়ার্ড চশমা তাকে বেশ ইনোসেন্ট লাগছে।সবকিছু ভুলে বাইরে কিছু একটা আতিপাতি করে এমন ভাবে খুজছে যে নিন্মাঙ্গের কোন বার্তাই তার মগজে গিয়ে পৌছায়নি। দুটো মাথা দুই ভাবনায় ব্যাস্ত।তার উদ্দেশ্যে কয়েক ডজন গালি জিভের অগ্রভাগে এসে কিলবিল করল শুধু।

আপনি কি জানেন কত শত পুরুষ শিশু কিশোর পুরুষদের দ্বারা ধর্ষিত হয় প্রতিবছর?

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সমকামিতাকে ঘৃনা করি কিন্তু সমকামীকে নয়(অনেকটা পাপকে ঘৃনা কর পাপীকে নয়-এর মত),কেননা তারা কোনমতেই বিপরিদ লিঙ্গের প্রতি আকর্ষন অনুভব করেনা।এটাতো স্বীকৃত যে সমকামীতা একধরনের অসুস্থতা-প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলার কাছে তারা অসহায়!অতএব তাদের ঘৃনা করাটা বোধ হয় ঠিকনা।।
কিন্তু সারা বিশ্বেই অন্য এক ধরনের সমকামী বা উভকামীর দেখা মিলবে। এদের কোন বাছ বিচার নেই। বিপরিদ লিঙ্গের কাউকে না পেলে এরা সমলিঙ্গের সাথেও দৈহিক মিলনে লিপ্ত হতে দ্বীধা করেনা। নিজের রিপুকে দমন করার জন্য এরা যে কোন পন্থা অবলম্বন করে।আমাদের দেশের মত ধর্মীয় কারনে বা সামাজিক ভাবে রক্ষনশীল দেশেই এদের আধিক্য। অবশ্য সবখানেই একঘেয়েমীতা বা রুচি পরিবর্তনের জন্য কিছু মানুষ সমকামীতায় আগ্রহী হয়।
অল্প চেনা অতিচেনা কিংবা অচেনা কোন সবল পুরুষের কাছে একই বিছানায় যখন আমরা একটা কিশোরকে আমরা ঘুমোতে পাঠাই নিশ্চন্তে তখন কি একবারও ভাবি-কি ভয়াবহ একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে সেই একটা রাতে?সেই কিশোরটি কাউকে বলতে পারেনা-হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না ভেবে।কি নিদারুন ভয়ঙ্কর লজ্জা অপমান গ্লানীতে নীল হয়ে সে মুষড়ে থাকে-সারাটাজীবনই হয়তো সে মনের একান্ত গহীনে সে কষ্টটাকে বয়ে বেড়ায়।

ঠিক তেমনি একটি ভয়ঙ্কর ধর্ষনের ঘটনার বর্ণনা করছি আমার এক অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নিজের জবানীতে;
তখন বয়স ১১/১২ হবে।নারীদের প্রতি অল্প বিস্তর আকর্ষন বোধ করি, রুপ দেখে বিমোহিত হই, কল্পনায় সপ্ন গিজগিজ করে রুপকথার আদলে। সন্তান উৎপাদনের পুরোপুরি প্রক্রিয়া থকনো জানা হয়নি।যৌন বিষয়ক কথাবার্তা বহুবার পিউরিফাইড হয়ে কানে আসে।
ভাবতাম যৌন সম্ভোগ শুধু খারাপ লোকেরাই করে।আমার পরিবার,পরিবেশ আর আশেপাশের কালচার এইভাবেই আমাদের শিখিয়েছিল।নিরাভরন নারিদেহ দেখার দুর্নিবার আকাঙ্খা থাকলেও সেইটে ছিল শুধু নিষিদ্ধ কোন কিছু চোখ দিয়ে স্পর্শের আকাঙ্খায়।
ইন্টারনেট টিভির দৌরাত্ম আর খোলামেলা ছবির আগ্রাসনতো তখনো শুরু হয়নি-তাই এই প্রজন্মের থেকে অনেকখানি পিছিয়ে ছিলাম তখন।
সমকামী ব্যাপারটা তখন ধারনার মধ্যেই ছিলনা।একসাথে গাদাগাদি লেপ্টালেপ্টি করে শত শত পুরুষ নারী শুয়ে থাকলেই কি-নির্জলা বন্ধুত্ব কিংবা আত্মিক সম্পর্ক ছাড়া তাদের মধ্যে অন্য কোন সম্পর্ক থাকতে পারে সেইটে কল্পনা থেকে বহু লক্ষ্য যোজন দুরে ছিল।
সেই পুচকে বয়সে আমার দুই বোন আমাকে বডিগার্ড হিসেবে নিয়ে গেল বেড়াতে আমাদের দুরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে।সম্পর্ক দুরের হলেও তাদের আন্তরিকতাও আতিথিয়েতা ছিল দারুন।জোড়াজুড়িতে সেই রাতে সেখানে থেকে যেতে বাধ্য হলাম সবাই।মেয়েদর থাকার জায়গার ব্যাবস্থা হলেও আমাকে নিয়ে পড়ল ফ্যাসাদে!তখন না বড় না ছোটর দলে।
অবশেষে আমার জায়গা হল তাদেরই ভাড়া দেয়া এক মেস বাড়িতে।মাঝারি একটা রুমে তিনখানা খাট। তিনজন বোর্ডার মাত্র। জায়গা হল তন্মধ্যে বেশ বড় একখান খাটে সজ্জন এক বোর্ডারের সাথে।
তখনো হাফ প্যান্ট পরি। গায়ের জামাখানা খুলে রেখে বিছানায় শরির এলিয়ে দিলাম।
এরকম পরিবেশ আমার জন্য একদম নতুন -অপরিচিত কারো সাথে ঘুমাইনি কখনো, তাই প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগলেও জার্নি আর হুটোপাটার ধকলে ক্লান্ত আমি ঘুমিয়ে পরলাম পরক্ষনেই।
গভীর রাত; ঘুম ভেঙ্গে গেল-দম আটকানো অস্বস্তি কর একটা চাপ অনুভব করছিলাম।
ঘুম ঘোরে ভেবছিলাম সপ্ন দেখছি-পরমুহুর্তেই ফিরে এলাম বাস্তবে।ভীষন আতংকিত হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার পাশে শুয়ে থাকা সবল রোমশ পুরুষটা আমাকে জোরে চেপে ধরে তার উত্তিথ পুরুষাঙ্গ দিয়ে আমার দুপায়ের ফাকে জোরে জোরে ঘষছে। সারা দেহ থরথর করে কেপে উঠল আমার ভীষন ভয় পেয়ে গেলাম।তবুও মনে ভীষন সাহস সঞ্চয় করে ঝাড়া দিয়ে উটে বসে আতংকিত কন্ঠে বললাম- এসব কি করছেন?
লোকটা আচমকা আমার কাছ থেকে এমন প্রতিরোধ আশা করেনি- সেও ধড়মড় করে উঠে বসে-কাপা কাপা কন্ঠে এক্কেবারে কিস্যু জানেনা এমন ভঙ্গীতে বলল,কেন কি করেছি?
-আমি আরো জোড়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, মানে আপনে জানেননা কি করেছেন? আমি সবাইকে বলে দেব।
তখুনি সে আমার মুখ চাপা দিয়ে হিস হিস করে উঠল, খবরদার কাউকে বলবা না তাইলে খুন করে ফেলব।‘
পাছে ঘুমিয়ে পড়লে সে আমাকে মেরে ফেলে সেই ভয়ে আতংকে সারারাত আমি ঠায় বসে ছিলাম সেখানটায়। ভোরের দিকে হয়ত একটু তন্দ্রার মত এসেছিল-ফের চোখ মেলে চাইতেই দেখি বিছানা ছেড়ে পালিয়েছে সে- সকালের মিষ্টি রোদের আলো ভরে আছে সারা ঘর।
ভোরের আলোর স্পর্শে হয়ত আমি ভয় মুক্ত হয়েছিলাম-তবু সেই রাতের স্মৃতি আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে আরো বহু বছর।

Posted by
Abraham Lingkon

More

এক বছরে সমকামী পুরুষ ও সমকামী নারীদের মধ্যে ৭০০ টি বিয়ে হয়েছে৷

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি কর্তৃপক্ষ জানালেন, ২০১০ সালের ৪ মার্চ থেকে এক বছরে সমকামী পুরুষ ও সমকামী নারীদের মধ্যে ৭০০ টি বিয়ে হয়েছে৷ এগুলোর মধ্যে পুরুষ সঙ্গীর সাথে বিয়ে হয়েছে ৩৬৭ জন গে'র এবং নারী সঙ্গীর সাথে বিয়ে হয়েছে ৩৩৩ জন লেসবিয়ানের৷ এসব সমকামী যুগলের মধ্যে ৭৩ শতাংশই বিদেশি বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ৷ বাকিরা অবশ্য মেক্সিকোর নাগরিক৷

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, সমলিঙ্গের সঙ্গীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসা এসব নারী-পুরুষের নয়জনের বয়স ৭১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে৷ মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য সমকামীদের বিয়ে সংক্রান্ত এই আইনের বিরুদ্ধে লড়ছে৷ তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায় গেছে মেক্সিকো সিটির পক্ষেই৷ ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশে সমকামী সঙ্গীকে বিয়ে করতে অপারগ নারী-পুরুষও এসে ভিড় জমাচ্ছে এই নগরীতে তাদের স্বপ্ন পূরণে৷

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী সিডনিতে আজ রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সমকামী উৎসবগুলোর অন্যতম ‘গে অ্যান্ড লেসবিয়ান মার্ডি গ্রা'৷ ৩৪তম বার্ষিক এই আসরে সাড়ে আট হাজার সমকামী নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করছে বলে জানা গেছে৷ সমকামীদের এই বিশাল উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হলিউড তারকা লিলি টমলিন৷ 

Posted by
Abraham Lingkon

More

সিডনীতে বাঙালী সমকামী

সারা বিশ্বে সমকামীতা যেভাবে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা সমাজবিদ্যায় একটা খুব ইন্টারেস্টিং বিষয়। কিন্তু আমার কথা তা নয়। আমরা বাঙালীরা সাধারণত এসব বিষয় একটু এড়িয়ে চলি। কিন্তু খুবই আশ্চর্য হলেও সত্য যে সিডনীতে অনেক সমকামী বাঙালী বসবাস করেন। আরও মজার ব্যপারটা হচ্ছে এমন দুজন বাঙালীর খবর এদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে যে তারা অষ্ট্রেলিয়ায় থাকার জন্য নিজেদের সমকামী হিসাবে কোর্টে হাজির করেছেন। তারা এ বলে মাননীয় কোর্টকে বুঝালেন যে তারা যদি বাংলাদেশে গিয়ে তাদের সমকামী সম্পর্ক বজায় রাখেন তাইলে তাদের জীবন নাশের সম্ভাবনা আছে। তাই তারা অষ্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে থাকতে চান। যেমন চাওয়া তেমন পাওয়া। এই দুজন স্থায়ীভাবে অষ্ট্রেলিয়া থাকার অনুমতি পেয়ে গেলেন।

আপনারা তাদের এই কর্মকে কিভাবে দেখছেন ? এটাকি সুকর্ম !!! না কুকর্ম ???

http://www.mnalamfarid.com

Posted by
Abraham Lingkon

More

সমকামিতার সপক্ষে কিছু যুক্তি...এর বিপক্ষে আপনাদের যুক্তিগুলো জানতে আগ্রহী

আমেরিকায় কিছুদিন আগে সাইক্লোন আইরিন হানা দিয়েছিল; যেটা ছিল ইস্ট কোস্টের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সাইক্লোন। এর জাস্ট কয়েকদিন আগেই ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যন্ড তথা ইস্ট কোস্ট এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছিল যা নাকি গত ১০০ বছরের ইতিহাসে প্র্রথম। এসব দেখে এক আমেরিকানকে বলতে শুনেছি, সাম্প্রতিক আমেরিকায় আইন করে সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার কারণেই নাকি ঈশ্বর শাস্তির আলামত দেখাচ্ছেন। ঈদের নামাজের সময় এখানকার ইমাম সাহেবও একই কথা বলছিলেন।

আমি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পিএইচডি করছি। আমাদের ডিসিপ্লিনে এ বিষয়ে অনেক কথাবার্তা হয়। ধর্মীয়, সামাজিক, পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের কারণে সমকামিতা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও এ সংক্রান্ত আলোচনায় পড়াশুনার খাতিরে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। সেখানে সমকামিতার পক্ষে যে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা হল:

১. তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কোন সোসাইটিতেই সমকামিতা একটা সামান্য % জনগোষ্ঠির মধ্যে দেখা যায়না। কাজেই এর জন্য মানব বংশ বিলুপ্ত হবার কোন সম্ভাবনা নেই।

২. সুস্থতা, অসুস্থতা (বিশেষ করে মানসিক) এসবের সূক্ষ্ম মাত্রা আমরাই নির্ধারণ করি। সমকামিতাকে অসুস্থতা বলা হবে কিনা এটা যতটা না বায়োলজিকাল ইস্যু তার চেয়ে বেশি পলিসি তথা নীতিগত সিদ্ধান্তের ইস্যু। এটাকে যদি সুস্থতা ধরে নিই তাহলে তো কিছুই বলার নেই। আর অসুস্থতা ধরে নিলে তার চিকিৎসা প্রয়োজন; শাস্তি নয়।

৩. মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে কারো সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নিয়ে নাক গলানো গ্রহণযোগ্য নয়; যতক্ষণ না তা অন্যের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করছে।

৪. সমকামিদের বেশ কিছু অসুখ বেশি হয় বলে দেখা গিয়েছে; যেমন এইডস। সমকামিদের স্টিগমাটাইজ করলে মানুষ এসব রোগ পুষে রাখবে; চিকিৎসা নিতে সঙ্কুচিত হবে। এতে সমাজে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

আরো যুক্তি আছে যা এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা। এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে এগুলো আমার যুক্তি; বা আমি এগুলোকে সমর্থন করছি। লিখলাম আপনাদের যুক্তিগুলো জানার জন্য। কারণ উপরের যুক্তিগুলো শুনে একজন একাডেমিক মানুষ হিসেবে একধরণের দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছি।

আপনাদের যুক্তিগুলো জানলে আমার কিছু লাভ হতে পারে। এটা নিয়ে সরগরম আলোচনা জমিয়ে তোলা যাবে। তাই পরিশীলিত এবং মার্জিত ভাবে আপনাদের যুক্তিগুলো (বিপক্ষে; বা পক্ষেও হতে পারে) তুলে ধরলে বাধিত হব।
ধন্যবাদ।

Posted by
Abraham Lingkon

More

আরবদের সমকামীতার নগ্নরুপ। এবার পরিচারককে খুন করল এক সমকামী সৌদি যুবরাজ

যেমনটি আমরা ইতিহাসলদ্ধ জ্ঞান এবং পরকালের ইসলামী প্রলোভন থেকে জানতে পারি--আরবরা প্রাচীনকাল থেকে সমকামী এবং কামুক। এর একটি নিকৃষ্ট প্রমাণ সম্পৃতি ঘটে যাওয়া নিচের এই সংবাদেই পাবেন। নিউজটি বিডিনিউজ ২৪ডটকমের সৌজন্যে প্রাপ্ত।


সৌদি যুবরাজ সৌদ আবদুল আজিজ বিন নাসের আল সৌদ লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে তার পরিচারককে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই হত্যার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন প্রচেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে বলেও মঙ্গলবার ব্রিটেনের ওল্ড বেইলি আদালতকে জানিয়েছেন সরকারপক্ষের আইনজীবী জনাথন লেইড ল।

তবে সৌদি যুবরাজ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত ১৫ ফেব্র"য়ারি বন্দর আবদুল আজিজ নামের ওই পরিচারকের লাশ লন্ডনের ল্যান্ডমার্ক হোটেলে যুবরাজ সৌদ আবদুল আজিজ বিন নাসের আল সৌদের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। তখন তার গালে কামড়ের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

৩২ বছর বয়সী ওই পরিচারক মৃত্যুর আগে ৩৪ বছর বয়সী যুবরাজ সৌদ আবদুল আজিজ বিন নাসের আল সৌদের সঙ্গী হিসেবে তিন বছর বিভিন্ন স্থান ঘুরেছেন।

যুবরাজ সৌদ আবদুল আজিজ বিন নাসের আল সৌদের বাবা সৌদি বাদশার ভাইয়ের ছেলে এবং তার মা বাদশার মেয়ে।

লেইড ল আদালতকে বলেন, নিহত পরিচারকের মুখে ও মাথায় প্রচণ্ড জোরে ঘুষি মারা হয়। আঘাতের কারণে তার বাঁ চোখ ফুলে বন্ধ হয়েছিলো। তার ঠোঁট ছিলো ক্ষতবিক্ষত এবং কয়েকটি দাঁতও ভেঙ্গে গিয়েছিলো।

তিনি জানান, পরিচারক তার কানেও আঘাত পান এবং ময়না তদন্তে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও ধরা পড়ে। ওই পরিচারক এর আগেও এ ধরনের মারপিটের শিকার হন।

লেইড ল বলেন, ক্লোজ সার্কিট টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, ২২ জানুয়ারি ও ৫ ফেব্র"য়ারি ওই পরিচারককে হোটেলের লিফটে মারধর করছেন সৌদি যুবরাজ।

"বিভিন্ন আলামতে এটাই নিশ্চিত হয় যে, যুবরাজ হয় সমকামী নয়তো তার ভেতরে সমকামী প্রবণতা রয়েছে।"

Posted by
Abraham Lingkon

More

আমি বড় হয়েছি একদল সমকামী এবং সেক্স মেনিয়াক লোকের ভিড়ে।

ঘটনা ১ - আমি তখন খুব ছোট - বয়স ৫/৬ হবে। আমাদের বাড়িতে এক হাফিজ হুজুর লজিং থাকতেন।আমাদের আরবি পড়াতেন। একবার আমাদের অনেক মেহমান আসার কারণে আমাকে হুজুরের সাথে রাতে উনার ঘরে ঘুমাতে হয়েছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার প্যান্ট ভিজা। আমি তা দেখে হুজুরকে জিজ্ঞেস করি - হুজুর এসব কি, আমার প্যান্ট ভিজা কেন? উনি বলেন এসব কিছু না, যাও জলদি গোসল করে আসো। আর কাউকে এসব নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করোনা।

আমি সেদিন কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি কিন্তু বোঝ হয়ার পর বুঝেছিলাম সেদিন কি হয়েছিল।

ঘটনা ২- আমার বাড়িতে এক কাজের লোক ছিল, আমাদের বাড়িতে কাজ করত। এবং বাড়ির বাহিরে একটা ঘর ছিল সেখানে থাকতো। এক বিকেলে সে আমাকে তার ঘরে ডেকে নেয়। আমাকে নতুন এক টাকার নোট দিয়ে তার ঘরে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে যা করার করে। আমি সেদিন কিছু বুঝিনি কিন্তু বোঝ হয়ার পর বুঝেছিলাম সেদিন কি হয়েছিল। তার নাম ছিল করম আলি।

ঘটনা ৩ - স্কুল থেকে আসার পথে এক লোক আমাকে ফুটবল খেলার জন্য আমায় ডাকে। আমি আবার ফুটবল খেলার জন্য পাগল ছিলাম। সে তার ঘরে নিয়ে আমায় নিয়ে আমাকে কাপড় খুলতে বলে। আমি রাজি হয়নি, কান্না শুরু করি। আমার কান্না দেখে সে আমায় ছেড়ে দেয়।


------------------
করম আলি এখন সৌদি থাকে আর হাফিজ হুজুর কই আছে সেটা জানিনা। তবে ইচ্ছে আছে তাদের একদিন খুজে বের করব এবং তাদের মেশিন কেটে গলায় ঝুলিয়ে দিব।

Posted by
Abraham Lingkon

More

ডোলেঞ্চারের পর প্রতারনার নতুন ফাদ

মানুষের দূর্বলতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর মানুষ বরাবরই সাধারন মানুষদের ধোকা দিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষই টাকা উপার্জনের উপায় খুজে বেড়ায় আর সেই উপায় যদি নিজের মুখের সামনে চলে আসে তাহলে সেইটা পাওয়ার জন্য চেষ্টার কোন ত্রুটি থাকে না।
Online Earning Pioneer Group (OEPG) নামে একটি প্রতিষ্ঠান একটা নতুন কাজের অফার দেয়। তাহল ফোরাম পোস্টিং এর মাধ্যমে আয় করা। কাজটা হল http://www.forum.mt5.com এ বিভিন্ন থ্রেডের রিপ্লাই করতে হবে। আমি একটু খোজ খরব নিয়ে জানতে পারি এখান থেকে যে আয় হয় সেটা ফরেক্সে ইনভেস্ট করা যায় এবং লাভ হলে ডলার তুলে আনা যায়। তারা বিভিন্ন মানুষ কে দিয়ে ফোরামের কমেন্ট করিয়ে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে ফোরামে ইনভেস্ট করে্ এবং সেই খান থেকে ফোরাম পোস্টার দের টাকা দেয়।
আমি খুলনাতে থাকি। ঢাকাতে আমার এক বড় ভাই তুফায়েল খান প্রথমে ফোরাম পোস্টিং এর কাজ দেয়। প্রতিদিন ২ ঘন্টার মত করলে আমি ৪৫/৫০ কমেন্ট করতে পারতাম। তাতে ভালই টাকা আসত। কিছু দিন পর তিনি একজনের সন্ধান পান যে প্রতি কমেন্টে ৬ টাকা দিবে এবংন ১৫ দিন পর পর পেমেন্ট দিবে কিন্তু তাদের শর্ত হল তাদেরকে ১২০০ টাকা দিতে হবে। যেহেতু ১৫ দিনে মধ্যেই ১২০০ টাকা উঠে যাবে তাই টাকা দিতে কার্পণ্য করলাম না। আমার সাথে আমার ২ বন্ধুও টাকা দিল। প্রথমে ১০০০ টাকা পাঠালাম ২০০ টাকা বাকি ছিল পরে অবশ্য পেমেন্ট থেকে ২০০ টাকা কেটে নিয়েছিল।
এই সামান্য ফোরাম পোস্টিং এর জন্য আমাকে ন্যশনাল আইডি কার্ডের স্কান কপি ব্যাংক স্টেটমেন্টের স্কান কপি দিতে হয়েছিল, আমি বলেছিলাম এই কাজের জন্য এইগুলা লাগবে কেন? ওরা বলল এই গুলা ওদের নিয়ম তাই। এছাড়া একটা জয়েনিং ফর্মে আমার চৌদ্দগুষ্টির ইনফরমেশন নেয়। যেহেতু কাজ করতে চাই সেহেতু আমি তাদের কে এই ডকুমেন্টগুলা দিয়ে দিলাম।
কয়েকদিন ফোরাম পোস্টিং করার পর জানতে পারলাম তাদেরকে মোট ৬০০০ টাকা দিতে হবে। আমি অবাক হলাম কেন ৬০০০ টাকা? ওরা বলল এ্ইটা ওদের নিয়ম। আমি সহ আমার বন্ধুরা বিপাকে পড়ল, এই কাজের জন্য কেন এত টাকা দিব। পরে শুনলাম এই টাকা এক সাথে দিতে হবে না, তারা পেমেন্ট থেকে ৫০% করে কেটে এডজাস্ট করে দিবে। এই কথা শোনার পর আর কাজ করার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু যেহেতু ১০০০ টাকা দিয়েছি সেহেতু রাজি না হয়ে উপায় নেই।
প্রথম পেমেন্টর দেবার সময় দেখি তারা ১০% সার্ভিস চার্জ কাটছে। মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। কোন উপায় নেই সহ্য করে যাচ্ছি। রাগ করে ফান কারার মাধ্যমে একটা কমেন্ট দিলাম দেখেন তার জবাব দেখেন
প্রথমে পেমেন্ট পেলাম ব্যাংকের মাধ্যমে। কাজ করছি যতটুকু পারি। সময় মত পেমেন্ট দেয়া নিয়ে ও জটিলতা ছিল।
কিছূ দিন পর একটা পোস্ট দিল এবং আমার জবাব। এভাবে তারা টাকা কাটতেই থাকে।
 এতসব আইন কানুন আর এইটা ঐটা বলে টাকা কেটে রাখার কারনে অবশেষে সিন্ধান্ত নেই আমি এবং আমার এক বন্ধু কাজ করব না।
 
এরপর শেষ মাসের টাকা দেয়া নিয়ে শুরু করল নানা জটিলতা । আজ দেই কাল দেই করে ২ মাস হয়ে গেল কোন টাকা দেয় না। গ্রুপে কোন পোস্ট দিলে কোন জবাব ও পাওয়া যায় না।
টাকা চেয়ে পোস্ট দিছিলাম প্রথম পোস্টটা ডিলিট করে দেয় দেয়। তার পরের পোস্ট আমার। তারিখ গুলা একটা খেয়াল করে দেখেন।
পরে আবার পোস্ট দিয়েছেলাম এবং কিছু কড়া কথা বলেছিলাম । তার জবাবে ওইপি গ্রুপের চেয়ারম্যান ইয়াসিন খানের পোস্ট এবং আমার জবাব।
সর্বশেষ এপ্রিলের ৪ তারিখে আমার পেমেন্ট দেবার তারিখ দেয় কিন্তু তারপরও পেমেন্ট দেয়নি।
আমার সর্বশেষ পোস্ট।
তারপরও কোন জবাব নেই????
আমার কাছে আরো অনেক স্কিন শর্ট আছে যা সব দিলে পোস্ট টা অনেক বড় হয়ে যাবে তাই আর বেশি দিলাম না। তবে যদি প্রমানের জন্য আরো কোন তথ্য লাগে তাহলে আমি দিতে পারব।
এবার অন্যদের ভোগান্তির কিছু স্কিন শর্ট দেখুন।


Fahad Hossain Ramim  এই গ্রুপের একজন পরিচালক। তাকেও ফোন দিয়ে পাওয়া যায় না।

Oepg Grp এই আইডি দিয়ে সবার সাথে যোগাযোগ করা হয় । চেয়্যারম্যান ইয়াসিন হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবর দিছিল। পরে অবশ্য ফিরে আসছিল।

এবার আসুন পরিচয় করিয়ে দেয় কারা এই গ্রুপ পরিচালনা করে থাকেন।

Yeasin Khan

Online Earning Pioneer Group এর প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। প্রোফাইলে ইসলামিক ছবি দেখে ভাল মানুষ মনে হয়েছিল। তাই কোন প্রকার জানশোনা ছাড়াই তাদের সাথে কাজ করতে রাজি হয়েছি।
তার প্রফাইল ভিজিট করে আসতে পারেন। https://www.facebook.com/MD.YEASINKHAN

Al-Amin Ahmed


এই গ্রুপের একাউন্ট ম্যানেজার । সেই সব কিছুর সাথে পূনাঙ্গ ভাবে জড়িত। তার প্রফাইল ভিজিট করে আসতে পারেন। https://www.facebook.com/alamin.ahmed.27

Fahad Hossain Ramim

ইনি এই প্রুপের একজন কিন্তু কি পদে আছেন তা জানি না। তার প্রফাইল ভিজিট করে আসতে পারেন। https://www.facebook.com/framim
মোটামুটি তাদের প্রতারনার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তারা তাদের নতুন একটা প্র্র্রোযেক্ট শুরু করতে যাচ্ছে। অনেক লোক নিবে , আমি চাইনা আর কেউ আমার মত প্রতারিত হোক। তাই সবাইকে এই সব প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকার জন্য অনুরোধ করছি। তাদের বিচার আপনাদের উপরে ছেড়ে দিলাম । এখন আপনার যা ভাল মনে করেন তাই হবে।
সবগুলো লিংক একসাথে দিলাম
https://www.facebook.com/groups/oepgroup/
https://www.facebook.com/MD.YEASINKHAN
https://www.facebook.com/alamin.ahmed.27
https://www.facebook.com/framim
https://www.facebook.com/oepg.grp

Posted by
Abraham Lingkon

More

যে প্রশ্নগুলোর গ্রহনযোগ্য সমাধান না পেয়ে আমি আস্তিক

ধর্মের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যখন প্রথম ভাবতে শুরু করলাম তখনথেকেই কেবল মনে হতে থাকল আমি একজন পরাধীন ব্যক্তি। আমার স্বাধিনতা বলতে তেমন কিছুই বাকী থাকেনা, ধর্ম অনুসরন করতে গেলে। যেমন পাচবার নামাজ পড়তে হয়, এতে ব্যক্তিগত সময় কমে যায়। বাবা মায়ের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। নিজের কষ্ট করা উপার্জনে ও যাকাত দিতে হবে।বেশী অর্থের মালিক হওয়াযাবেনা কারণ পরকারল হিসেব দিতে হবে। যা খেতে ইচ্ছে হয় তাই খাওয়া যাবেনা। দেখতে ভাল লাগলেও সব দেখা নিষেধ। নিজের জীবনকে যেমন খুশি উপভোগ করা তো যবেই না এমনকি আমি চইলেআমার জীবনকে ধ্বংস ও করতে পারবো না। ধর্ম সম্পর্কে যত বেশী জানতে থাকি ততই আমার করনীয় ও বর্জনীয় এই দুটি লিষ্ট বড় হতে থাকে।

আবার নাস্তিকতাসম্পর্কে যখন জানা শুরু করলাম তখন সেখানে বলা হল ধর্মগুলি মানব সৃষ্ঠ। পরকাল বলতে কিছু নেই। মানুষকে নিয়ন্ত্রনের জন্য কোন দেশের আইন ও সমাজের প্রচলিত রীতিই যথেষ্ট। যাই হোক আমার আলোচনায় এমন কিছু বিষয় উঠে আসবে যার উত্তর নাস্তিকতায় পাওয়া যায়না।

১. মুক্তিযুদ্ধ:
একজন মানুষ কেন মুক্তিযুদ্ধ করবে বা দেশের জন্য প্রান দিবে? পরকাল বলে যদি কিছু না থাকে তবে শুধু শুধু নিজের জীবনটা দিব কেন? কেউ কেউ বলতে পারেন স্মরনীয় হওয়ার লোভে বা আগামী প্রজন্মের মংগলের জন্য। তাই বলে নিজের জীবন? আমি বেচে না থাকলে আগামী প্রজন্ম সুখে থাকলেও আমার কিছু যায় আসেনা। তাছাড়া স্মরনীয় হতে পারে কয়জন? ৩০ লাখ শহীদের কত জনের নাম অমরা জানি?

২. আগ্রাসন:
আমি প্বার্শবর্তী দেশের প্রশাসনকে জিম্মি করে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটবনা কেন যদি আমাকে বাধা দেওয়ার কেউ না থাকে? দেশের নদী, খাসজমি, স্কুলের মাঠ দখল করবনা কেন যদি অমি ক্ষমতাধর হই? লাখ লাখ একর কৃষি জমিতে বায়ু ফুয়েলের চাষ করবনা কেন যদি গাড়ি চালানোর জন্য অল্প কিছতেল পাই?

৩. দান ও পরোপকার:
আমার নিজের উপার্জিত অর্থ অন্যকে দান করব কেন? যদি নাম প্রচারই মূখ্য উদ্দেশ্য হয় তবে সাংবাদিক/টিভি কেমেরা না থাকলে দান করবো কেন? পৃথিবীতে কত পারসেনট দান লোক দেখানো?

৪. নৈতিকতা বিরোধী ব্যবসা:
আমি কেন খাদ্য ও ঔষধে ভেজাল মিশাবনা যদি অতিরিক্ত লাভ পাই? যে ব্যবসায় লাভ বেশী আমি কেবল সেইগুলাই করতে চাই যেমন মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা। আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকসল্পতা বা অন্য কোন দূর্বলতা থাকলে আমি কেন অবৈধ ব্যবসা করব না?

৫. আবিষ্কার ও সমাজসেবা:
মানুষ কেন সারা জীবন ব্যয় করবে আবিষ্কারের পিছনে? বিজ্ঞানীরা বেচে থাকতে তার আবিষ্করের সুফল কতটা ভোগ করতে পারে?

৬. মহামানব:
একজন মানুষ সারাজীবন কেন ভাল কাজ করবে? গৌতম বুদ্ধ আর হিটলারের জীবন দর্শনে পার্থক্য কি? গৌতম বুদ্ধ তার জীবদ্দশায় কি পেয়েছেন?

৭. ন্যায়বিচার:
ধরা যাক, একজন খুনী এক হাজার জন মানুষকে হত্যা করলো। এই হত্যার ন্যায়বিচার পার্থিব জগতে কীভাবে করা সম্ভব? পার্থিব জগতে সেই খুনীকে বড়জোর একবার মাত্র হত্যা করা সম্ভব। তাহলেই কি ন্যায়বিচার হয়ে যাবে? তাছাড়া মৃত মানুষদের জীবিত করাও তো অসম্ভব! নাস্তিকরা কি এই প্রশ্নের যৌক্তিক ও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারবেন? প্রচলিত নিয়মে যেটা করা হয় সেটা হচ্ছে এক ধরণের ক্ষতিপূরণ, ন্যায়বিচার নয়। আর খুনীকে যদি চিহ্নিত করা না যায় সেক্ষেত্রেই বা কী হবে! এরকম আরো অনেক বিষয় আছে যার যৌক্তিক ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এই জগতে দেয়া অসম্ভব।

৮. শ্রদ্ধা:
আমি কেন বড়দের শ্রদ্ধা করব? কেন বড়দের কথা শুনব? বড়রা ভূল করলে সাথে সাথে লজ্জা দিবনা কেন?

৯. যৌনতা ও বিবাহ:
আমি কেন বিবাহ পূর্ব ও পরে একাধিক যৌন সম্পর্ক রাখবনা? আমি তা করতে চাইলে দেশের আইন আমাকে কতটা বাধা দিতে পারে? নিজের কন্যা, বোন ও মাতাকে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়?

পরিশেষে:
আমার এ লেখা কারো সেকুলার বা অন্য কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে দু:খিত। যে কোন সমালোচনা সাদরে গৃহিত হবে।

Posted by
Abraham Lingkon

More

জামাত- শিবির কি আস্তিক- নাস্তিক নির্ধারণের মাপকাঠি

আস্তিক বা নাস্তিক এই প্রশ্নটি এখন সকলের ।

আমি ও আপনি আস্তিক কি নাস্তিক তার সার্টিফিকেট নিতে হবে জামাত- শিবিরের কাছ থেকে । জামাত- শিবিরের এই দাবিকে দেশের জনগন ও সরকার কিভাবে নিচ্ছে তা আমি জানি না । তবে এটা বলতে পারি ইসলাম ধর্মে এ দায়িত্ব কাউকেই দেওয়া হয় নাই ।

একত্ববাদে বিশ্বাসী যে , সেই আস্তিক । আল্লাহ্‌ ও তার নবী রাসুলদের প্রতি যার বিশ্বাস সেই আস্তিক । ইসলামের ভাষায় আল্লাহ্‌ ও তার প্রেরিত শেষ নবী হযরত মোহাম্মাদ সঃ এর প্রতি যার বিশ্বাস , আহকাম-আরকান যে মেনে চলে সেই প্রকৃত মুসলমান । যাকে বলা যায় আস্তিক ।

কিন্তূ জামাত- শিবির যে আস্তিক- নাস্তিকের কথা বলছে তা আমি বুঝতে পারছি না । জামাত- শিবির কি আস্তিক- নাস্তিক নির্ধারণের কোন মাপকাঠি নিয়ে বসে আছে ।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে , জামাত- শিবির ৭১ এ যে কার্যকলাপ করেছে সেটা কোন আস্তিকের কাজ । যদি তারা আস্তিক হয় তাহলে এখন কেন তারা গাড়ি পুড়ছে, ভাংচুর করছে সব , আহত করছে পুলিস সহ সাধারন জনগণকে । জান- মালের ক্ষতি করছে এ রাষ্ট্রের ।

ইসলামে বলে , তুমি শ্রদ্ধা কর তোমার রাষ্ট্রের আইনকে , শ্রদ্ধা কর রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে, রক্ষা কর রাষ্ট্রের সকল স্থাপনাকে, শ্রদ্ধা কর তোমার ভাষাকে, শ্রদ্ধা কর তোমার প্রতিবেশী সহ সকল মানুষকে, শ্রদ্ধা কর অন্য ধর্মের অনুসারীদের ।

কিন্তূ জামাত- শিবির যা করছে তার সংগে ইসলাম ধর্মের কোন মিল খুজে পাচ্ছি না । জামাত- শিবির আস্তিক কি নাস্তিক সেই প্রশ্নে যাব না, তবে এটা বলতে পারি জামাত- শিবির ইসলাম মানে না । জামাত- শিবির যে ইসলামের কথা বলে, সে ইসলাম আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ না ।

Posted by
Abraham Lingkon

More

আস্তিক নাস্তিক (ধর্ম ) ইস্যু নিয়ে রাজনীতি!!

রাজীবের ধর্ম নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। রাজীব মারা যাওয়ার পর থেকেই দেখছি সে নাস্তিক না আস্তিক এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ তাকে আস্তিক বানানোর জন্যে উঠে পরে লেগেছে, আবার এক পক্ষ নাস্তিক দাবী করে শাহবাগের আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন বলে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে রহস্যজনক ভুমিকা পালন করছে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের একটা প্রবনতা দেখতে পাচ্ছি। আমি আজকে আবার এ ব্যাপারে কথা বলছি কারন ৯ তারিখের তৃতীয় মাত্রায় দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড: সেলিম মাহমুদ বললেন রাজিবকে নাস্তিক বানানো নাকি জামায়াতের চক্রান্ত এবং নেটে তার যেসব লেখা রয়েছে তা ফেক। আমি যদিও একজন প্রাকটিসিং মুসলিম না কিন্তু ধর্ম নিয়ে নোংরা কটুক্তি পছন্দ করি না এবং যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদের চেস্টা করি। এবং যদি কেউ নাস্তিক না হয়ে থাকে বা ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে না থাকে, তার মৃত্যুর পর এসব রটানো ও গর্হিত কাজ। যদি কেউ সেটা করে থাকে রাষ্ট্র পক্ষের দায়িত্ব ছিল তাকে বের করে আইনের আওতায় আনা, সরকার সেটা না করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত।
দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনাও করলেও মাটির তল থেকে হলেও ধরে এনে যেখানে ১৪ শিখের ভিতরে ঢুকানো হয় সেখানে এত বড় ঘটানোর পরেও কথিত প্রচারকারীকে বের না করার কি মানে থাকতে পারে তা আমার বোধগম নয়। রাজীব ব্লগার ছিল এটা সর্বজনস্বীকৃত। শাহবাগ থেকে ও তাদের সহযুদ্বা হিসাবে ঘোষনা দেয়া হয়েছে, আমি যতদুর জানি সে থাবা নামে ব্লগিং করত। আমি এই নিকের লেখা পড়েছি "আমার ব্লগ"-এ। বলা হচ্ছে নুরানিচাপা নামে যে লিংক সেটা ভুয়া। মানলাম ভুয়া, আমার ব্লগ-এ যে লেখা সেটাও কি ভুয়া?? নুরানিচাপার লেখা এবং আমার ব্লগ , ফেসবুকের থাবা বাবার লেখা তো একই।
নুরানিচাপা রাজিবের মৃত্যুর পর প্রকাশ হলেও লেখাগুলো রাজিবের - আমার বিশ্বাস। সন্দেহ থাকলে আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল এদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, সত্য বের করুন।
আরেকটা কথা বলতে চাই তা হলো, রাজিবের নাস্তিকতার সাথে শাহবাগের আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নেই। আস্তিক, নাস্তিক, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মানবতা বিরোধীদের বিচার চাইতে পারে, শাহবাগে শরিক হওয়ার আগে কারো ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হয় না। কিন্তু আমি আশ্চর্য হই যখন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে মুর্খের মত কথা শুনি। এখানে ধর্ম নিয়ে জামায়াত যেরকম রজনীতি করছে আওয়ামীলীগ ও ঠিক একই রকম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। প্লিজ আপনারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি থামান, দেশের মানুষকে শান্তি দিন। খুনাখুনি বন্ধ করুন।

Posted by
Abraham Lingkon

More

নাস্তিক মুরতাদদের সাথে বন্ধুত্ব ত্যাগ করুন মুফতী ফয়জুল্লাহ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কুরআন সুন্নাহর আলোকে তাওহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে আল্লাহর দ্বীনের সুরক্ষা ও পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রত একটি সম্পূর্ণ অসহিংস, অহিংস, সুশৃঙ্খল অরাজনৈতিক সংগঠন। যে সংগঠনের সাথে ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত সকল কর্মকা-ের রয়েছে বৈরিতা। আমরা মনে করি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষী সংঘবদ্ধ চক্রের হাত থেকে এদেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার মতো স্বাধীন চিন্তা চেতনা কেবল আমাদেরই আছে। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কোন অভিভাবক নেই।
তিনি বলেন, যারা মুমিন, মুসলমান, সরকারী দল হোক বা বিরোধী দল, তাদেরকে বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিধন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, সিরিয়ার গণহত্যা, ১৫ কোটি মুসলামানের দেশে নাস্তিক মুরতাদ, ও আল্লাহদ্রোহীদের নবীজী সা.-এর অবমাননাসহ পাঠ্য পুস্তকে ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নাস্তিকতা ঢুকিয়ে এ জাতীকে বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে।
মুফতী ফয়জুল্লাহ আরো বলেন, উলামায়ে কিরাম জাতির বিবেক। আল্লামা শাহ আহমদ শফী তাদের পুরোধা। আমরা তাওহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মহান আল্লাহ ও তার রাসূল সা. ছাড়া আর কারও লেজুড়ভিত্তি করি না। আমরা সর্বমহলকে অনুরোধ করছি, নাস্তিক, ইসলামের শত্রদের সাথে বন্ধুত্ব ত্যাগ করুন।
তিনি বলেন, আমরা যৌক্তিক, বুদ্ধিভিত্তিক অসহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সা. প্রদর্শিত পথে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও হেফাজতে নিবেদিত একটি শক্তিশালী সংগঠন। মক্কার কিবলার দিকে সেজদাকারী কোটি কোটি মুসলমান এই সংগঠনের সদস্য। ইলেক্ট্রনিক্স, ও প্রিন্ট মিডিয়ার সকল ভাই বোনদের বলতে চাই, আপনারা দয়া করে আমাদেরকে কারও বি-টিম, সি-টিম বানিয়ে এটিকে ছোট করবেন না।
দেশের ইসলামপ্রিয় কোটি কোটি মুসলমান আখেরী নবীর সা. প্রাণপ্রিয় উম্মতদের উদ্দেশ্যে আমাদের বক্তব্য, কাফের, মুশরিক, নাস্তিক মুরতাদদের হাজারও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা আপনাদেরকে চির কাংখিত ইসলামের গন্তব্যেই নিয়ে যাবো। তারই প্রথম ধাপ হচ্ছে ৬ এপ্রিলের সারাদেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ। স্বার্থান্বেষীদের কোন কথায় কান না দিয়ে এদেশের বিজ্ঞ আলেম উলামাদের প্রতি আপনারা যে আস্থা দেখাচ্ছেন তা অব্যাহত রেখে সকল নবী রাসূল ও তাদের অনুসারীরে মতো আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত কঠিন পরীক্ষাসমূহ পার হতে প্রস্তুত থাকুন। ৬ই এপ্রিলের লংমার্চ সফল করুন। আমরা মহান রবের কাছে সাহায্য চাই। ইনশাআল্লাহ চূড়ান্ত বিজয় আমাদের হবেই।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় লালবাগস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে ৬ এপ্রিলের লংমার্চের স্বেচ্ছাসেবা দানে  আগ্রহী ইসলামী ছাত্র খেলাফতের ৩১৩ জনের শহীদী কাফেলা ও ঢাকার পার্শ¦বর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের প্রচার সেলের প্রধান মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল হাই ফারুকী,মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা জুনায়েদ গুলজার, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা মনসূরুল হক, মাওলানা ইয়াকুব গাজী, মাওলানা ইসহাক, মাওলানা আবদুল আজিজ, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমান,ছাত্র খেলাফত সভাপতি আনসারুল হক ইমরান, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক আল আমিন আজাদ, ঢাকা বিভাগীয় সম্পাদক মাহমুদুল হাসান আরাবী প্রমুখ

Posted by
Abraham Lingkon

More

বাংলাদেশের ব্লগারদের বিরুদ্ধে তথ্য আইনের ব্যবহার হবে

বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, লেখালেখির মাধ্যমে 'ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের প্রবর্তকদের বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন' করার অভিযোগে তারা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুইজনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে গোয়েন্দারা মঙ্গলবার আরো তিনজন ব্লগারকে গ্রেপ্তার করে।
রাজধানীর ইস্কাটন থেকে সকালে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে মি. মহিউদ্দীনকে লেখালেখির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
''সে প্রকৃতিবাদে বিশ্বাসী এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে তার লেখালেখিতে ব্যক্তিগত মতামতের মাধ্যমে মূলত ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের প্রবর্তকদের বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করত। আর এর মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে সে আঘাত হেনেছে, এ কারণেই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি।''
প্রকৃতিবাদে বিশ্বাসী হওয়া বা নাস্তিক হওয়া বাংলাদেশের আইনে অপরাধ কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, ''বাংলাদেশের দন্ডবিধি এবং তথ্য অধিকার আইনে কেউ নাস্তিক থাকতে পারেন, কিন্তু তার লেখালেখির মাধ্যমে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।''
গোয়েন্দারা ব্লগারদের প্রথম তিনজনকে আটক করে মঙ্গলবার।
গ্রেফতারের পর নিম্ন আদালত আদেশে এদের সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এই ব্লগারদের এমন এক সময়ে গ্রেফতার করা হলো যখন ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অভিমুখে আগামী শনিবার লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
গোয়েন্দা হেফাজতে তিনজন ব্লগার
গোয়েন্দা হেফাজতে তিনজন ব্লগার
অন্যদিকে, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্টরা এসব গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন।
জাতীয় স্বার্থে অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট-এর সমন্বয়ক পারভেঝ আলম মনে করেন, এ ঘটনার মাধ্যমে সরকার হেফাজতে ইসলামের দাবির কাছে কার্যত নতিস্বীকার করল।
''এ ঘটনার মাধ্যমে সরকার হেফাজতে ইসলামে অন্যায্য ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী কিছু দাবির কাছে আপোষ করলো। একই সাথে ব্লগাররা গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটি শক্তি হিসেবে যে সম্ভাবনা দেখাচ্ছিল সরকার তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে।''
গণজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করে দেয়াসহ যে ১০ জন ‘নাস্তিক’ ব্লগারের ফাঁসির দাবি তোলে হেফাজতে ইসলাম, তাদের তালিকায় আসিফ মহিউদ্দীনের নাম ছিল।
এর আগে ব্লগে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে গত ১৪ই জানুয়ারি রাতে উত্তরায় তার ওপর হামলা হয়।
ছুরিকাঘাতের গুরুতর জখম নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মি. মহিউদ্দীনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ গত ১লা এপ্রিল চারজন যুবককে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত চার ব্লগারের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা এবং টিএসসিতে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি এবং রাজনীতিবিদদের কয়েকটি সংগঠন পৃথকভাবে মানব-বন্ধন এবং সংহতি সমাবেশ করেছে।

Posted by
Abraham Lingkon

More

সম্মানিত নাস্তিক ভাইদের বলছি

সম্মানিত নাস্তিক ভাইদের বলছি ....................................................................আসলে আমার এ লেখাটি কাউকে কষ্ট দেয়া, বা কারো অনুভুতিতে আঘাত হানা, বা কারো প্রতি অসম্মান দেখানোর জন্য নয় বরং নাস্তিক কোন ধর্ম নয়, নাস্তিক্যবাদ হল নিজস্ব চিন্তা প্রসুত একটা বিষয় সুতরাং কাউকে এ দিকে আহ্বান করা ঠিক নয় । যার যতটুকু চিন্তার পরিধি সে ততটুকু চিন্তা করবে এটাই সত্য, এজন্য অন্য আরেকজনকে নিজের চিন্তার দিকে আহ্বান করে তাকে চিন্তা করার অবকাশ না দিয়ে নিজের চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া আমি মনে করি সম্পুর্ণ অন্যায় । তাই আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি সম্মানিক নাস্তিক ভাইদের প্রতি আপনারা আপনাদের চিন্তা নিয়ে থাকেন দয়া করে আপনাদের চিন্তাগুলো আমাদের সাধারণ জনগনের মাঝে ছড়াবেন না..............................
 কোরআনে আছে ...প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করিতে হবে ।আর এই কথা সত্য যে, আজ পর্যন্ত কোন নাস্তিক আজীবন বেচে আছে এর কোন নজীর আজ পর্যন্ত আমি জানিনা বা শুনিনি । আর আগামীতেও শুনব না । তবে একটা কথা আমি সবাইকে বলে রাখি ।(আমি যে কথা বলতে যাচ্ছি এ কথার আমি মানি না বা বিশ্বাস করি না আর আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত করবও না)...........আচ্ছা যদি সত্যি সত্যি আল্লাহ নামে কেউ না থাকেন আর আমরা শুধু শুধু তাকেঁ মানি এবং তাঁর এবাদত করি তাহলে তো কিছুই হবেনা কারন নাস্তিকদের কথানুযায়ী পরকাল নাই এবং মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় । আর যদি পরকাল থেকে থাকে তাহলে তাদের কি হবে?মরনের সময় যে কঠিন আজাব এর কথা বলা হয়েছে সে সময় তাদের চিৎকার কে শুনবে ,কবরে যে আজাবের কথা বলা হয়েছে তাঁর কি হবে ? আমরা তো বেঁচে যাব ।

Posted by
Abraham Lingkon

More

স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম : নাস্তিক/আস্তিক সব ব্লগারদের জন্যে

সাম ইন - এ নাস্তিকদের যে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী রয়েছে তাদের মতের বিরুদ্ধে আমি আজ থেকে প্রতিদিন আপনাদের একটি মূল্যবান বইয়ের পুরো অংশ তুলে ধরতে চেষ্টা করবো ধীরে ধীরে।

বইয়ের নাম : স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম
লেখক : মুহাম্মাদ সিদ্দিক
প্রকাশকাল : আক্টোবর, ২০০০ ইং
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৭৬

হকিং-এর "সংক্ষিপ্ত সময়ের ইতিহাস"

ডঃ স্টিফেন ডব্লিউ হকিং আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানীদের ভিতর একজন সেরা বিজ্ঞানী। তিনি শারীরিক দিক দিয়ে পঙ্গু। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। তবু শারীরিক পঙ্গুত্বকে হার মানিয়ে তিনি পড়াশুনা, গবেষণা চালিয়ে যান, পিএইচডি ডিগ্রী গ্রহণ করেন ও শেষতক ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্ক শাস্ত্রে লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্তি পান। এই পদে এক সময় স্যার আইজ্যাক নিউটন (বিশ্বের আরেক সেরা পদার্থবিজ্ঞানী) ছিলেন। অনেক বিশেষজ্ঞ হকিংকে আইনস্টাইনের পর একজন সেরা পদার্থবিজ্ঞানী বলে মনে করেন।

হকিং-এর একটি বই " এ ব্রিফ হিস্ট্রি আব্ টাইম" (সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস)। প্রায় দুশো পৃষ্ঠার এ বইটি মূলত অপদার্থবিদদরে জন্য লেখা পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে একটি বই। তবু পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে নতুন নতুন কথা রয়েছে ছোট্ট বইটিতে। সহজ করে বলার চেষ্টা করেছেন পণ্ডিত হকিং তার পাণ্ডিত্যের কথা। ১৯৮৮ সালে বইটি বাজারে আসে ও (বেস্ট সেলার)- সেরা বিক্রয়ের প্রশংসা হাসিল করে।

আমাদের এই বইটিতে আগ্রহের কারণ হলো পদার্থবিজ্ঞানের নবতর গবেষণার আলোকে ইসলামকে পরখ করে দেখা আর দ্বিতীয়ত ডঃ হকিং কর্তৃক স্রষ্টা ও ধর্ম সম্পর্কে কতিপয় মন্তব্যও পরখ করা। সাধারণত বলা হয় যে, বিজ্ঞানের নবতর গবেষণা ও আবিষ্কার ধর্মকে কোণঠাসা করেছে। এ ধারণা অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে কিছুটা সঠিক হলেও, ইসরাম ধর্ম সম্পর্কে এটি আরোপ করা অবৈজ্ঞানিকসুলভ হবে। ফ্রান্সের চিকিৎসা বিজ্ঞানী মরিস বুকাইলি কোরআন মজীদ নিয়ে গবেষণা করে তাঁর বিখ্যাত "দি বাইবেল দি কুরআন এন্ড সাইন্স" গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন যে, কুরআনে কোনো রকম অবৈজ্ঞানিক তথ্য বা অসামঞ্জস্যতা নেই।

হকিং-এর বইটির ভূমিকাতে কার্ল সাগা (কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইথাকা, নিউইয়র্ক) লিখেছেন : This is also a good book about god... or perhaps about the absence of god. The word god fills these pages. Hawking embarks on a quest to answer Einstein’s famous question about whether god had any choice in creating the universe. Hawking is attempting, as he explicitly states, tounderstand the mind of god and this makes all the more unexpected the conclusion of the effort, at least so far, a universe with no edge in space, no beginning or end in time and nothing for a creator to do.

(ভাবানুবাদ : এটা ঈশ্বর সম্পর্কে একটা বই অথবা ঈশ্বর না থাকা সম্পর্কেও। ঈশ্বর শব্দটি এই বইয়ের পাতায় পূর্ণ। বিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের কোন পছন্দ ছিলো কি না- বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের এই বিখ্যাত প্রশ্নের জবাবের জন্য হকিং প্রচেষ্টা নেন। হকিং স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি ঈশ্বরের মনকে বোঝার চেষ্টা করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি যে প্রচেষ্টা নিয়েছেন তার ফলাফল অপ্রত্যাশিত। হকিং চেয়েছেন এমন একটা মহাবিশ্ব, যার নেই কোনো কিনারা মহাশূন্যে, কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই এবং স্রষ্টার করার কিছু নেই।)

হকিং-এর উপর মন্তব্য করতে গিয়ে কার্ল সাগা যা বলেছেন, তাতে ঈশ্বরের যে পরিচয় ফুটে উঠে, বিশ্ব সৃষ্টিতে সেই ঈশ্বরের যেন কোন ইচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দ, আগ্রহ ছিলো না, এমনকি তার করারও কিছু ছিলো না। তাহলে ধরে নিতে হয় বিশ্ব সৃষ্টিতে আর একটি শক্তি- যা ঈশ্বর অপেক্ষা শক্তিশালী- কাজ করেছে। তাই ঈশ্বরের করার কিছু ছিলো না। আর বিশ্বটাও এমনি যে, এর কোন শুরু নেই, শেষ নেই, কিনারা নেই। হকিং-এর মন্তব্যের অর্থ হলো যার শুরুই নেই, তার সৃষ্টিতে আর ঈশ্বরের প্রয়োজন কি?

আসলে হকিং ও কার্ল সাগা বিজ্ঞান চর্চা করতে গিয়ে বিজ্ঞানের বাইরের বিষয়গুলি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। ঈশ্বর আছেন কি না, তা কি পদার্থ বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর নির্ভরশীল ? শুধু পদার্থ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কি ঈশ্বরকে দেখতে হবে ? মানুষের আর সব জ্ঞানকে কি তবে সমুদ্রে বিসর্জন দিতে হবে ? হকিং তার বইয়ের শেষ দিকে উপসংহার অংশে দার্শনিকদের ব্যঙ্গ করেছেন। আসলে যে যে লাইনের পণ্ডিত তারটা ছাড়া অন্যেরটা তার তেমন পছন্দের হয় না। তারা মনে করেন যে, সব কিছু তাদের বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে বা তাদের বিষয়েই নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যাপারটি এত সহজ কি ?

হকিং মন্তব্য করেছেন যে, দার্শনিকগণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিওরির (মতবাদ) উন্নতির সাথে তাল মিলাতে পারেননি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে দার্শনিকগণ বিজ্ঞানসহ সমগ্র জ্ঞানকে তাদের বিষয়বস্তু মনে করতেন এবং তারা আলোচনা করতেন বিশ্বের কি শুরু ছিলো ?তারপর বিজ্ঞান বেশী টেকনিক্যাল ও গাণিতিক হওয়ায় দার্শনিকদের শুধু ভাষার বিশ্লেষণ ছাড়া আর কিছু করার থাকে নি। হকিং-এর এসব কথা অনুযায়ী যেহেতু দার্শনিকগণ বিশ্ব ও ঈশ্বর সম্পর্কে চূড়ান্ত কিছু দিতে পারেননি তাই দর্শন এখন আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এখন যদি বিজ্ঞানীরা সমস্ত বৈজ্ঞানিক থিওরি কে একটি থিওরিতে আনতে পারেন, তাহলে ঈশ্বরের মনকে জানা যাবে। বিজ্ঞানীরা বিশ্ব সম্পর্কে একটি সাধারণ একক থিওরি আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং তারা নাকি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন !

শুধু পদার্থ বিজ্ঞানের চোখ দিয়ে সমগ্র বিশ্ব ও জ্ঞানকে যাচাই করে, দর্শনকে অবজ্ঞা করে এবং সাধারণ একক বৈজ্ঞানিক থিওরি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের তথাকথিত অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জ্ঞান-বিজ্ঞান কি সত্যের কাছাকছি পৌঁছতে পারবে ? যদি বিজ্হান প্রতিপন্ন করে যে, বিশ্বের শুর, শেষ ও কিনারা নেই, আর একটি মাত্র একক সাধারণ বৈজ্ঞানিক থিওরি সব কিছুর জন্য দায়ী তাতে ঈশ্বরের অসহায়ত্বটা কোথায় ? বিরাটতম ঈশ্বর কি বিরাট বিশ্বকে নিজস্ব পছন্দে সৃষ্টি করতে অক্ষম ? এই বিরাট বিশ্ব সৃষ্টিতে তাঁর কি কোন কাজই ছিল না ? না, তিনি না চাইতেই বিশ্ব সৃষ্টি হয়ে গেল ? হকিং-এর ধারণা অনুযায়ী এসব মেনে নিলে ঈশ্বর সম্পর্কে হিন্দু বা বিকৃত খৃস্টধর্ম সম্পর্কীয় ঈশ্বর ধারণাকে মেনে নিতে হয়। ইসলামের ঈশ্বর অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কীয় ধারণা এ সবের উর্ধ্বে। বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে- আর আল্লাহ তাঁর পরিকল্পনায় ছিলেন না বা তার করার কিছু ছিল না এতে- কতিপয় পদার্থ বিজ্ঞানীর এই ধরণের বিভ্রান্ত মতামত মানুষকে সত্য থেকে দূরে নিয়ে যাবে (নাস্তিক আরিফুর রহমান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !- হিমু রুদ্র)। এককালে দার্শনিকগণ বিজ্ঞান নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করতেন। এই চিন্তা ভাবনার ফলে বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে আজকাল বৈজ্ঞানিকগণ তাদের গণ্ডিভুক্ত জ্ঞান দিয়ে দার্শনিক প্রসঙ্গগুলোকে দেখছেন। সেই সঙ্গ ঈশ্বর সম্পর্কে আজগুবি তত্ত্ব দিচ্ছেন। এতে সত্য প্রকাশিত না হয়ে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করবে।

আর একটি কথা। পদার্থ বিজ্ঞানী হকিং মনে করেন যে, বর্তমানে বিজ্ঞান বেশি টেকনিক্যাল ও গাণিতিক হবার ফলে দার্শনিকগণ বিজ্ঞানে আর নাক গলাবার মওকা পাচ্ছেন না। জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি শ্রেষ্ঠ শাখা দর্শনকে এভাবে ব্যঙ্গ করা তার মতো বিজ্ঞানীর উচিতহয়নি। দর্শন যদি পরিত্যাজ্যই হবে, তবে কেন তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য লালায়িত ছিলেন। পিএইচডি হলো ডক্টরেট অব ফিলোসফি। পদার্থবিদ্যার ছাত্র হয়েও তাকে নিতে হয়েছে দর্শনের "তকমা"। এ সব কথার দ্বারা আমি দর্শনকে উচ্চে তুলতে চাই না। আমি বলতে চাই না যে, দর্শনই শ্রেষ্ঠ। আমি এটাও বলবো না যে, পদার্থ বিজ্ঞানই শ্রেষ্ঠ। আসলে জ্ঞান এক অবিভাজ্য অভিজ্ঞতা। এ এক বিশাল বৃক্ষ। এর শিকড় গভীরে প্রোথিত,ডালপালা ঊর্ধ্বে বিস্তৃত। পদার্থ বিজ্ঞান ও দর্শন বিজ্ঞান ছাড়াও জ্ঞানের অনেক ডাল-পালা রয়েছে, নানা শাখা-প্রশাখা রয়েছে। সবই জ্ঞানরূপ বৃক্ষের অংশ।

কোরআন মজীদ বলে : " সৎ বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ যার মূল সুদৃড় ও যার শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে বিস্তৃত, যা প্রত্যেকে মওসুমে তার ফলদান করে তার প্রতিপালকের অনুমতি ক্রমে।.... কু বাক্যের তুলনা এক মন্দ বৃক্ষ যার মূল ভূ-পৃষ্ঠ হতে বিচ্ছিন্ন, যার কোন স্থায়িত্ব নেই।"
------------------------------------ (১৪ সূরা ইব্রাহীম : আয়াত ২৪-২৬)

ডঃ হকিং পদার্থ বিজ্ঞানে জ্ঞানী হতে পারেন। তবে কি তিনি এনাটমি, জিওলজি ইত্যাদিতে এইকইভাবে পণ্ডিত বলে গর্ব করতে পারেন ? এগুলোও বিজ্হানের অংশ। তবু সব বিজ্ঞানী সব অংশ সম্পর্কে একই পর্যায়ের পণ্ডিত নন। বিজ্ঞানের শাখা প্রশাখাতেই যদি এমন হজয়, তাহলে বিজ্ঞানের বাইরে জ্ঞানের যে শাখা প্রশাখা আছে, তা সম্পর্কে একজন বিজ্ঞানী কি সম-জ্ঞানের অধিকারী ? না, নন। কাজেই একজন পদার্থবিদের চোখ দিয়ে দেখা ঈশ্বর সম্পর্কে বিভ্রান্তকারী মনোভাব কিভাবে গ্রহণ করা যায় ? এতা কুবাক্য অনুরূপ। এ বাক্যের কোন স্থায়িত্ব নেই, এর মূল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বিচ্ছিন্ন।

বিশ্ব সম্পর্কে একটি একক থিওরি আবিষ্কার হলে ঈশ্বর কোণঠাসা হয়ে যাবেন বা তার ক্ষমতা সীমিত হবে বা তার করার কিছু থাকবে না আর মানুষ (বিশেষ করে একজন সেরা পদার্থবিদ) হবে চূড়ান্ত সত্য- এটা কিভাবে চিন্তা করা যায় ? একীভূত, একক বৈজ্ঞানিক থিওরি তো পক্ষান্তরে একত্ববাদেরই জয়গান গাইবে। সব কিছুর মূলে যে ঈশ্বর- তখনতো তাই প্রমাণিত হবে। বিভিন্ন থিওরি থাকলে কেউ কেউ বলতে পারতেন যে, নানা ঈশ্বর নানা থিওরি সৃষ্টি করেছেন। যখন থিওরি একটাই হবে, তখন এক ঈশ্বর যে এর স্রষ্টা- এটা বলাই স্বাভাবিক হবে। কাজেই একক বৈজ্ঞানিক থিওরি ঈশ্বরের ক্ষমতা বা অবস্থানের ক্ষতি করবে না। পদার্থবিদ হকিং পদার্থবিদ্যা ছেড়ে দর্শন বা ধর্মতত্ত্বের ঘরে হানা দিয়ে ঈশ্বরকে ক্ষমতাহীন করার ব্যর্থ কসরত করছেন !

কোরআন মাজীদ বলে : "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন : তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি। তারপর আল্লাহ যখন তোমাদের মাটি থেকে ওঠার জন্য ডাকবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা তাঁরই। সকলেই তার হুকুম মানে। আর তিনিই অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি আবার একে সৃষ্টি করবেন- এ তাঁর জন্য সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই। আর তিনিই শক্তিমান তত্ত্বজ্ঞানী।"
--------------------------------------------(১০ সূরা রূম : আয়াত ২৫-২৭)

"তুমি কি দেখনা যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশে ও পৃথিবীতে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমন্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু, আর সিজদা করে মানুষের মধ্যে অনেকে ? আবার অনেকের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে।"
------------------------------------------------(২২ সূরা হজ্জ : আয়াত ১৮)

"সাত আকাশ ও পৃথিবী আর তাদের মধ্যকার সবকিছুই তাঁর পবিত্র মহিমা ঘোষণা করে আর এমন কিছু নেই যা তাঁর পবিত্র মহিমা ঘোষণা করে না। অবশ্য ওদের পবিত্র মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না।"
--------------------------------------------------(১৭ সূরা বনী ইসরাঈল : আয়াত ৪৪)

উপরোক্ত বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহকে মানছে। আল্লাহর আদেশেই চলছে সর্বত্র। আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি তাঁরই আদেশে নির্ভরশীল। শুধু মানুষের কিছু সংখ্যক তাঁকে মানছে না। কিন্তু বস্তুজগত (অর্থাৎ পদার্থবিদদের বিশ্ব) আল্লাহকে মানছে। তাই যদি হয়, তাহলে তার আদেশ তো একটাই হবে। তাই একক, একীভূত বিশ্ব থিওরি আবিষ্কৃত হলে আল্লাহর অসুবিধাটা কোথায় ?হকিং-এর মত কিছু পদার্থবিজ্ঞানী তাঁকে পুরাপুরি না মানলেও আল্লাহর কর্মপদ্ধতি পরিবর্তিত হবে না। তিনি আগে যা করেছেন, এখনও তাই করতে সক্ষম।

সৃষ্টি সম্পর্কে ঈশ্বরের কোন পরিকল্পনা ছিল কি-না, এব্যাপারে তাঁর কোন ইচ্ছা ছিলো কি-না, তিনি এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত ছিলেন কি-না, তাঁর কিছু করার ছিলো কি-না, তাঁর ক্ষমতা সৃষ্টিতে সীমিত ছিলো কি না, তাঁর এখন করার কিছু আছে কি না, দর্শন বা ধর্মতত্ত্বের এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু পদার্থবিদ্যা দিয়ে প্রদান করা ঠিক হবে না। ফিজিক্স-এর বাইরে রয়েছে "মেটা ফিজিক্স"। কোনোটাকে খাটো করা যায় না। "ফিজিক্স" যেখানে শেষ... "মেটাফিজিক্স" সেখানে শুরু। বিজ্ঞান যেখানে যেতে পারে না, দর্শন সেখানে বিচরণে সক্ষম।ধর্মতত্ত্ব সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে ও দর্শনকে ঠিক রাস্তায় নিতে পারে। ইসলামী ধর্মতত্ত্ব দর্শনকে ঠিক পথে চালাতে সক্ষম।

---------------------------------------(মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে)

Posted by
Abraham Lingkon

More

Categories

Powered By Blogger
abrahamalingkon

Social Icons

Popular Posts

Followers

Featured Posts

asbl. Blogger দ্বারা পরিচালিত.

Copyright © / আসুন আমরা ইভটিজিং বন্ধ করি ।

Template by : Urang-kurai / powered by :ahb